ঢাকা, সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ১০ মহররম ১৪৪৪
মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়

নতুন বই বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে



নতুন বই বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নতুন (২০২২) পাঠ্যপুস্তক বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্রিত বই নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী একটি ট্রাক জব্দ করে প্রশাসনকে খবর দেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে বইগুলো উদ্ধার করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তাদেরকে বই না দিয়েই ২০২২ সালের বই বিক্রি করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

জানা গেছে, পুরনো বইয়ের সাথে ২০২২ সালের পাঠ্যপুস্তক বিক্রি করে দিয়েছে মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন- আমাদেরকে সবগুলো বই না দিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে শিক্ষকরা। পরে আজকে দেখতে পাই ট্রাকে করে বই নিয়ে যাচ্ছে। পরে আমরা ট্রাকটিকে আটক করলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম সাইফুল হক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত ইউএনও রাসেল ইকবাল গিয়ে বইগুলো জব্দ করে।

মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও রায়পুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাছুত তাওহীদ মুঠো ফোনে বলেন- এখানে পাওয়া সবগুলো বই ছিলো পুরনো। শুধুমাত্র একটি বই ছিলো ২০২২ সালের। বইটি ছিলো ছিঁড়া-ফাড়া। সভাপতি মহোদয় শিক্ষা অফিসারের হাতে বইটি তুলে দিয়েছে। এটা আমার বিরুদ্ধে গভির সড়যন্ত্র। এ বিদ্যালয়টি আমার হাতে গড়া। আমাকে অনেক কাঠখড়ি পোহাতে হয়েছে। অনেককে সন্তুষ্ট করতে পারিনি বলে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি এখন পথে আছি। সকাল থেকে এখনো কিছুই খাইনি। পরে কথা হবে, এখন রাখছি, আসসালামু আলাইকুম বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইদুল বাকিন ভুঁইয়া বলেন, আমি তথ্য জানার সাথে সাথে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর পাঠাই। উনারা এসে সরজমিনে তদন্ত করে দেখেছেন। সেখানে টাইফিংয়ে সমস্যা থাকা ২০২২ সালের একটি বই ছিলো। সেটি আমি শিক্ষা অফিসারের হাতে তুলে দিয়েছি। বইগুলো জব্দের পাশাপাশি তিনারা শিক্ষকদেরকে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। উনারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি। আমি এলাকায় না থাকায় শিক্ষকরা মিটিং করে বইগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুধুয়া এম এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন- আমি জানতাম পরনো বই বিক্রি করেছে। এখন শুনলাম যে নতুন বই বিক্রি করে দিয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান কখনো নতুন বই বিক্রির ক্ষমতা রাখেন না। আমি বিস্তারিত জানা ছাড়া এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম সাইফুল হক বলেন- আমরা তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি বিক্রিত সবগুলো বই পুরনো। সেখানে কোন নতুন বই ছিলো না। নতুন বই বিক্রির অভিযোগ এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ২০২২ সালের বইয়ের ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমরা এখন করোনার টিকা নিয়ে ব্যস্ত আছি। ভারপ্রাপ্ত ইউএনওসহ সেখানে গিয়ে নতুন কোন বই খুঁজে পাইনি। বিক্রি করা পুরনো বইয়ের টাকা সরকারি ফান্ডে জমার দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, নতুন বই নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি সবগুলো পুরনো বই। নতুন কোন বই পাইনি আমরা। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদেরকে একটি কাগজ দেয়া হয় যেখানে পুরনো বই বিক্রির অনুমোদন ছিলো। যে কারণে আমরা কোন ব্যবস্থা না নিয়েই বিষয়টি সমাধান করে ফিরে আসি।


   আরও সংবাদ