ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আমদানি বন্ধের সুফল পোচ্ছে সরকার



আমদানি বন্ধের সুফল পোচ্ছে সরকার

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। দেশে বেড়েছি আমদানি কমেছে রেমিট্যান্স। এতে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে ডলারের দাম। বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা শর্তারোপে কমতে শুরু করেছে আমদানি। যার সুফল আসতে শুরু করেছে। কমেছে আমদানির এলসি (লেটার অব ক্রেডিট বা ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ। যার প্রভাব পড়বে ডলারের বাজারে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে কমতে শুরু করবে ডলারের দাম।

খোলাবাজারে ডলারের দর কমে বিক্রি হচ্ছে ১০৮ থেকে ১১০ টাকায়। কয়েক দিন আগে যা ১১২ টাকায় ওঠে। বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে এরই মধ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই নেওয়া হয়েছে জুলাই মাসে। ফলে আমদানিতে এর প্রভাব বোঝা যাবে জুলাইয়ের তথ্য হাতে পাওয়ার পর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত জুন মাসে ৭৩৮ কোটি ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। আগের মাস মেতে যার পরিমাণ ছিল ৮২০ কোটি ডলার। অবশ্য জুন মাসে এলসি নিষ্পত্তি প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে ৮৫৫ কোটি ডলারে ওঠে। জুন মাসে নিষ্পত্তি হওয়া এলসির বড় অংশ আগে খোলা। আর এলসি খোলা কমে যাওয়ার মানে নিকট ভবিষ্যতে আমদানি ব্যয় কমবে। ব্যাংকের সূত্র বলছে, জুলাইতে এলসি আরও কমেছে। মূল্য বিবেচনায় ২৭ তারিখ পর্যন্ত কমার হার ২৫ শতাংশ। রেমিট্যান্স এসেছে ১৯০ কোটি ডলার। মাস শেষে রেমিট্যান্স ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগের মাস জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৪ কোটি ডলার। গত বছর আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিক্রি করলেও ডলারের দর বেড়েই চলেছে। আমদানির জন্য ১০০ টাকার নিচে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০৭ থেকে ১০৮ টাকায় ডলার কিনে আমদানি দায় মেটাতে হচ্ছে। রেমিট্যান্সের জন্যও ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা দরে ডলার কিনতে হচ্ছে। খোলাবাজারেও দর বেড়ে ১০৮ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে যা ১১২ টাকায় ওঠে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্তের কারণে আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে। যা ডলারের ঊর্ধ্বমুখীতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে দেশের আমদানির অর্থ বড় একটা অংশ ব্যয় হয় জ্বালানিতে। বিশ্ব বাজারে এখন জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম বেশি। তাই ডলারের দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সময় লাগবে। ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেছেন, শিগগিরই ডলারের বাজার স্থিতিশীল হবে।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার অস্থিরতার পেছনে কিছু ব্যবসায়ী ও ব্যাংক দায়ী। অনেকে এখন শেয়ার বাজারের মতো ডলার কেনাবেচা করছে। আমি শুনেছি দেশের এই ক্রান্তিলঘ্নে একটি ব্যাংক এক মাসে ৯৫ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে। একটি ব্যাংক কিভাবে সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে এতো টাকা লাভ করতে পারে। এরাই ডলার কিনে বাজারে সংকট সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে ৯৪ টাকায়। কিন্তু এরা বাজারে বিক্রি করছে ১১০ টাকায়। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এটি বন্ধ করা দরকার। এদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। এমন অবস্থায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা দরকার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলারের সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া অন্যসব পণ্যের আমদানির এলসিতে শতভাগ মার্জিনসহ বিভিন্ন শর্ত দিয়েছে। নগদ ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণেও আমরা কাজ করছি। ডলারের দাম বাড়িয়ে যেসব মানি চেঞ্জার ও ব্যাংক অন্যায্য মুনাফা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের কারসাজি রোধে অভিযান শুরু হয়েছে যা অব্যাহত থাকবে।


   আরও সংবাদ