Home / প্রবাস খবর / দুবাই বসে ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতেন ‘জিসান’

দুবাই বসে ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতেন ‘জিসান’

নিউজ ডেস্ক : ঢাকার এক সময়কার সন্ত্রাস জগতের একচ্ছত্র অধিপতি জিসান আহমেদ মন্টি দুবাই বসেই ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ করেন। আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, যুবলীগ নেতা জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ এখনও শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হাতেই।

আইনশৃঙ্খলা-বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করে জিসান। এরপর নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর চৌধুরী নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ঠিকানা দেখানো হয়েছে সারদা পল্লী, ঘানাইলা, মালুগ্রাম শিলচর, চাষার, আসাম। বাবার নাম হাবিবুর রহমান চৌধুরী। মায়ের নাম শাফিতুন্নেছা চৌধুরী আর স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে রিনাজ বেগম চৌধুরী। ২০০৯ সালের ৭ জুন প্রদান করা পাসপোর্টটির মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২০১৯ সালের ৬ জুন। আর পাসপোর্ট ইস্যুর স্থান উল্লেখ আছে দুবাই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত এক দশকে দেশের শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর নাম তালিকাভুক্ত করেছে। তাদের অন্যতম হলেন জিসান। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। ইন্টারপোল তার নামে রেড অ্যালার্ট জারি করে রেখেছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জিসান সম্পর্কে বলা আছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং বিস্ফোরক বহনের অভিযোগ আছে।

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে দুবাই অবস্থানরত এ শীর্ষ সন্ত্রাসী সেখানে বসেই ঢাকার অপরাধ জগতের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। ঢাকায় তার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, পল্টন, মগবাজার-মালিবাগ, ফকিরাপুল, মতিঝিল এলাকার ব্যবসা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন তিনি। একসময় ঢাকায় এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে উঠেছিল তার। যাদের নাম শুনলে ভয়ে তটস্থ থাকতেন সবাই। দিনে-দুপুরে তারা চাঁদা চেয়ে চিরকুট পাঠাত। সঙ্গে পাঠাত কাফনের কাপড়। অনেকেই নীরবে দাবিকৃত সেই চাঁদা দিয়ে দিত। না দিলে জীবন দিতে হতো।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার আলোচিত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিকে শামীমের সঙ্গে মিলে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতেন জিসান। এই ত্রয়ীর সুসম্পর্ক ছিল আরেক ক্যাসিনো গডফাদার ইসমাইল হোসেন সম্রাটের।

সূত্র জানায়, জিকে শামীমকে ঘিরে ঢাকা মহানগর যুবলীগের এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে জিসানের বিরোধ তৈরি হয়। অবস্থা ভিন্ন দিকে চলে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় জিসানের সঙ্গে বিরোধ মেটাতে সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন খালেদ। তিনি এ সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন

গত জুনের মাঝামাঝি সিঙ্গাপুরে যান জিকে শামীম, মহানগর যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতা ও খালেদ। আর জিসান দুবাই থেকে সেখানে যান। সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে এলাকার একটি বিলাসবহুল হোটেলে তাদের বৈঠক হয়। যদিও বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে কিলিং মিশনে অংশ নিতে দুবাই থেকে ঢাকায় পাঠানো হয় জিসানের সহযোগীদের।

ঢাকার টেন্ডারবাজ জিকে শামীম গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, আগে কখনও এত দেহরক্ষী রাখেননি তিনি। মূলত জিসানের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ার পর থেকে ‘ভয়ে’ বড় নিরাপত্তা টিম গঠন করেন জিকে শামীম।

About দেশ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow