Home / রাজনীতি / রায়পুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আ’লীগ অফিসসহ ১২ বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত ১৬

রায়পুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আ’লীগ অফিসসহ ১২ বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত ১৬

সোহেল আলম: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আ’লীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে অফিস, বাড়িঘর, ও গাড়ীতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের ১৬ নেতা-কর্মী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১ টায় উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বিগত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদের বিপক্ষে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ২ নং চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাষ্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এতে করে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়, নির্বাচনেও তিনি পরাজিত হন। পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওসমান খাঁন ও খালেদ দেওয়ানকে দিয়ে ২ নং চরবংশী ইউনিয়নে নতুন আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়। সে থেকেই এ ইউনিয়নের দলীয় গ্রুফিং চরমে উঠে।

এছাড়াও এই ইউনিয়নে মাছঘাট, চর, হাটভাজার ইজাড়া নিয়েও দীর্ঘদিন গ্রুফিং চলে আসছে। এরই সূত্র ধরে গতকাল তুচ্ছ কথাকে কেন্দ্র করে প্রথমে খালেদ দেওয়ান গ্রুপের লোকজন আলতাফ মাষ্টারের গ্রুপের লোকদের উপর হামলা করে। এতে পান্নু, সবুজ, মাঈনুদ্দীন, কামাল, কাদের, সোহাগ ও নান্টু আহত হয়, হামলাকারীরা আলতাফ মাষ্টারের ব্যবহৃত প্রাইভেট গাড়িটি ভাংচুর করে।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১ টায় আলাতাফ মাষ্টারের গ্রুপেরর ২/৩শ লোক সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে প্রথমে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা করে। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন খলিফা, যুবলীগ নেতা রাশেদ খলিফা, জোবায়ের খান, আবু সুফিয়ান, সিদ্দিক খলিফা, জুলহাস ও মোজাম্মেলকে মারাত্মক আহত হয়। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের ১২ নেতা-কর্মীর ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক রায়পুর থানা ও হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শনিবার সকালে সরজমিন গেলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ মাষ্টারকে কেন্দ্র করে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মকান্ড চলছিলো। পূর্বে একাধিকবার সংঘর্ষ, ভাঙচুর, আহত ও পাল্টাপাল্টি একাধিক মামলা হয়েছে। মামলাগুলোও বর্তমানে চলমান। এ অবস্থায় আ’লীগ নেতা ওসমান খাঁ ও আলাউদ্দিন খাঁ আলতাফ মাষ্টারের সাথে মিমাংসা হয়ে যান এবং মামলা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছিলো। কিন্তু-খালেদ দেওয়ান ও রুহুল আমিন খলিফার লোকদের সাথে বিরোধ রয়ে গেছে আলতাফ মাষ্টারের লোকদের সাথে।

এ ব্যাপারে আলতাফ মাষ্টার বলেন, দলের জন্য আমার ত্যাগ আছে, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা হয়, আমি বিচার চাই।

ইউনিয়ন যুবলীগের সাঃ সম্পাদক রাশেদ খলিফা বলেন, আলতাফ মাষ্টার একজন বহিস্কৃত নেতা, সে ভূমিদস্যূ ও জলদস্যূ। তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সে আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করে এবং দলীয় কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে আমাদের কুপিয়ে আহত করে। আমরা তার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে রায়পুর থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। কোন পক্ষ এখনো মামলা করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অপরাধীদের গ্রেফতারপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনকে

About দেশ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow