Home / এক্সক্লুসিভ / লক্ষ্মীপুরে সরকারি ঘর দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মেম্বার

লক্ষ্মীপুরে সরকারি ঘর দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মেম্বার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে সরকারি ঘর দেয়ার নামে জনপ্রতি ১৫ থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে এক ইউপি সদস্য। অথচ দুই বছরেও ঘর পাননি ভুক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলে ইউপি সদস্য নানা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অবশ্য, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জমি আছে ঘর নেই’- এই আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে তৃণমূল পর্যায়ের জমি আছে অথচ ঘর নির্মাণ করতে পারছে না, এমন অতি দরিদ্র পরিবারের জন্য বিনামূল্যে সরকার ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। অথচ প্রকল্প এখনও না এলেও আগামীতে আসবে এই কথা বলে উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবুল বাশারের যোগসাজশে অর্ধ শতাধিক অতি দরিদ্র মানুষকে একটি করে ঘর দেয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘর দেবেন- ইউপি সদস্যের এমন আশ্বাস সরল মনে বিশ্বাস করেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের হতদরিদ্র পরিবার। তাদের অভিযোগ, চরলামছি গ্রামের হতদরিদ্রের কাছ থেকে ঘর দেয়ার কথা বলে প্রত্যেক পরিবারের কাছে থেকে ২০১৮ সালে ১৫, ২০, ৩০, হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয় ইউপি সদস্য আবুল বাশার ও ওরফে সাদ্বুল। কিন্তু দুই বছরেও ঘরের চিহ্নও দেখেননি তারা। উল্টো টাকা ফেরত চাইতে গেলে লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

চর লামছি গ্রামের দর্জি মেঘানাথ জানান, চররুহিতা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল বাশার ওরফে সব্দুল আমাকে ঘর দেয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি এখনো কোনো ঘর পাইনি।

কবিরাজ বাড়ির আনোয়ার উল্ল্যাহ জানান, আমাকে ঘর দেয়ার নাম করে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি এখনও ঘর পাইনি। আজ-কাল বলে শুধু হয়রানি করছে। নুর মিয়ার বেপারীর বাড়ির সফিক উল্যাহ বলেন, ঘর পেতে মেম্বারকে আমি দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুদের ওপর ৩০ হাজার টাকা নিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি এখনও ঘর পাইনি।

নুরুল ইসলাম সওদাঘর বাড়ির ফয়সাল, মাখন মুড়ির পুরাতন বাড়ির দীপংকর, ওমর আলী সর্দ্দার বাড়ির টিপু সুলতান, তাবু মেম্বারের ভাতিজা জুয়েল জানান, ঘরের জন্য প্রত্যেকেই ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছি মেম্বারকে, ২ বছর হয়ে গেছে এখনো ঘর পায়নি।

দোকানদার ইকবাল জানান, ঘরের কথা বলে আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে, ২ বছর পার হয়ে গেছে আমি এখনো ঘর পায়নি। সুদে আসলে মেম্বর আমার টাকা দিতে হবে। তা না হলে আমি আইনের আশ্রয় নিবো।

হতদরিদ্র নারী ও পুরুষেরা জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘর দিচ্ছে বলে এখানকার মেম্বার আমাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিছে। গাছ বিক্রি করে সে টাকা দিয়েছি। দেড় বছর হয়ে গেছে এর মধ্যে টাকাও দেয় না, ঘরও দেয় না।

অভিযোগ স্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল বাশার বলেন, আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৮ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। এদের মধ্যে তিনজনের টাকা ফেরৎ দিয়েছি। বাকিদের টাকা ফেরৎ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির পাটওয়ারীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেদোয়ান আরমান শাকিক জানান, যদি তার বিরুদ্ধে এর সত্যতা পাই অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

About দেশ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow