Home / এক্সক্লুসিভ / লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনীমোহন ইউনিয়নের রমনী গ্রামে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেয়ার কথা বলে স্থানীয় দালাল ডেগ আবু, শহিদ উল্যা, কাজল সৈয়াল ও ঠিকাদার ছোট বাবুলসহ ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দেড় বছর আগে টাকা দিলেও গ্রামবাসী এখনো বিদ্যুৎ পায়নি। জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা দিতে হয়। এর বাইরে সদস্য ফি হিসেবে ৫০ টাকা এবং মিটার জামানত হিসেবে ৪৫০ টাকা নেয়া হয়। এই ৪৫০ টাকা ফেরতযোগ্য। এর বাইরে বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য আর কোনো টাকা দিতে হয় না।

উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের রমনী গ্রাম, ভূয়ার হাট থেকে চেয়াম্যানের বাড়ির দরজা পযন্ত, সচিবের রাস্তা থেকে কাচ্ছার খাল, সাবের চর গ্রামে ২৫০টি পরিবার বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য পাঁচ থেকে ছয় হাজার করে প্রায় ১৪ লাখ টাকা দেন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, চররমনী গ্রামের মপিজ উল্যাহ সরকার,মালেক, নাছির সদ্দার, আলী সদ্দার, আমিন চাঁন সদ্দার বাড়ির, ইমন হোসেন মাঝি, জসীম উদ্দীন, আক্কাস মাঝি, শাহাজাহান কবির, কাচ্ছার খালের মাদ্রাসার এলাকার জলিল মোল্লা, সাবের চর গ্রামের মহিন উদ্দীনের কাছ থেকে এ টাকা নেন। কিন্তু দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো বিদ্যুৎ পাননি।

আনোয়ার উল্যাহ পাটোয়ারীর বাড়ির মজুবল হক টাকা জোগাতে গরু বিক্রি করে দেন। তিনি বলেন, ‘তাড়াতাড়ি বাড়ির কারেন্ট লাগিবার জন্য বাড়ির গরু বিক্রয় করে শহিদ উল্যার হাতে ছয় হাজার টাকা দিয়েছি। দেড় বছর পার হয়ে গেইল, কারেন্ট পায়নি। টাকা ফেরত চায়েও পাচ্ছি না।’

সাবেরচর গ্রামের সচিবের রাস্তার এলাকার ইমন হোসেন,ইমন হোসেন মাঝি, সালাউদ্দিন মাঝি, আলা উদ্দীন সদ্দারসহ আরো পাঁচজন বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নেন। তিনি বলেন, টাকা নেয়ার সময় তাদের কত তোড়জোড়। তা মনে হয়েছিল, কালই বিদ্যুৎ চলে আসবে। টাকা দেয়ার পর আর দেখা নেই। এখন আজ-কাল করে সময় পার করছে।

হারুন বলেন, ‘দিনমজুরি করে খাই। অনেক কষ্টে করে পাঁচ হাজার টাকা জোগাড় করি দালাল ডেগ আবু, শহিদ উল্যাকে দিয়েছি। টাকা দিবার দেড় বছর হয়ে গেইল, এখনো বিদ্যুৎ পাইুন।

চর রমনী মোহন গ্রামের বোরহান মুন্সি বাড়ির সোবহান, বোরহান মুন্সি, রুহুল আমিন মো: নুরুল ইসলাম বলেন, দার কর্জ করে নতুন মিটার পাওয়ার আশায় সাত হাজার করে ডেগ আবুকে দিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদ উল্যা বলেন, বিদ্যুৎ-সংযোগ দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। বিদ্যুৎ-সংযোগের খরচ, জামানত ও ঠিকাদারের কাজ করতে গিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি টাকা কাজল সৈয়ালকে বুঝিয়ে দিয়েছি।

অপর দিকে ডেগ আবু জানায়, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রতাশীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে স্বীকার করে বলেন, সব টাকার হিসাব আমার কাছে আছে, আদায় করা কিছু টাকা চেয়ারম্যানের ছেলে কাজল সৈয়ালকে বুঝিয়ে দিয়েছি, ঠিকাদার ছোট বাবুলকে খাওয়া দাওয়া পরিবহন খরচসহ প্রায় ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি।

ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে কাজল সৈয়াল জানায়, লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে এড়িয়ে গিয়ে বলেন সংযোগ দেয়া শুরু হয়ে গেছে, ডেগ আবু, শহিদসহ মিটার প্রতি পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা করে আদায় করেছে।

এদিকে ঠিকাদার ছোট বাবুল বলেন, আমি বিদ্যূৎ অফিসকে চররমনীমোহন ইউনিয়নের শহিদ উল্যা নামে নতুন বিদ্যুৎতের সকল কাজ বুজিয়ে দেয়ার পর আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকতে পারে না, টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি অস্বীকার করন।

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ঐ এলাকার লোকজন বিদ্যুতের কার্যালয়ে আসেন না। ফলে দালালেরা যা বলেন, গ্রামবাসী তাই বিশ্বাস করেন। সংযোগ পেতে কত টাকা লাগে, তা জানতে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে জেনে নিলেই এভাবে প্রতারিত হতে হয় না।দালাল ও ঠিকাদার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About Alamgir Hossain

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow