Home / এক্সক্লুসিভ / রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের নয় ছয়, মিটার ছাড়াই আসছে বিল

রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের নয় ছয়, মিটার ছাড়াই আসছে বিল

বিশেষ প্রতিবেদক: পল্লী বিদ্যুতের মিটারের জন্য আবেদন করেছেন দুই বছর আগে। দুই বছর পরও আসেনি কাঙ্খিত মিটার কিন্তু মুঠোফোনে বিলের জন্য এসএমএস আসছে নিয়মিত। বিগত কয়েকমাস থেকে এমনই ঘটনা ঘটে চলেছে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার আলমগীর পাটওয়ারীর সাথে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রায়পুর উপজেলার ৬ নং কেরোয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের হাশেম মিয়াজীর নতুন বাড়ির বাসিন্দা আলমগীর পাটওয়ারী। তিনি বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে কর্মরত আছেন। সে সুবাদে থাকেন চট্টগ্রামে। গ্রামের বাড়িতে একটি ঘর তুলেছেন তিনি। সেই ঘরের মিটারের জন্যই আবেদন করে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী আলমগীর জানান, ঘরের জন্য ২০১৮ সালে স্থানীয় দালাল তাজল ইসলামের কাছে মিটার বাবদ ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। শর্ত ছিলো যত দ্রুত সম্ভব মিটারের ব্যবস্থা করে দিবে। কিন্তু একমাস দু’মাস করে দুই বছর শেষ হয়ে গেছে কিন্তু আজও দেখা মিলে না মিটারের। তবে বিগত কয়ে কয়েক মাস থেকে আমার মুঠো ফোনে বিদ্যুৎ বিলের ম্যাসেজ আসতেছে। যেহেতু বিলের জন্য ম্যাসেজ আসছে তাহলে নিশ্চই মিটারও অনুমোদন হয়েছে। তাই আর তাকেও তাগাদা দেইনি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম বিলের জন্য আমার মোবাইলে যে এসএমএস আসছে তা আমার না, ইব্রাহীম নামের এক ব্যাক্তির। যার বাবার নাম নজির আহমদ।

রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের ইসি মোঃ সুলতান আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মিটার অনুমোদন করাতে হলে গ্রাহকের মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত করতে হয়। সে কারণে ইব্রাহীম নামের ব্যাক্তির মিটারের কাগজে ভুল করে উনার নাম্বার চলে গেছে।

তিনি বলেন, কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণেই গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। তারা ১০০ টাকার কাছেও বিক্রি হয়ে গ্রাহকদেরকে বাধ্য করে দালালের কাছে যেতে। গ্রাহক কিছু না বুঝে বাধ্য হয়ে তাদের কাছে টাকা জমা দিয়ে হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

দালাল তাজল ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাজল আমাদের অফিসের কেউ না, আমরা তাকে ছিনি না। আপনারা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমরা আপনাদেরকে সহযোগীতা করবো।

এব্যাপারে রায়পুর জোনাল অফিসের (ডিজিএম) শেখ মানোয়ার মোরশেদ বলেন, এমন কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসে নাই। আপনার মাধ্যমে আমি বিষয়টি জানতে পারলাম। তদন্ত করে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

দালাল তাজল ইসলামের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নামে আমাদের কোন কর্মী নেই। আমরা তাজল নামে কাউকে ছিনি না। আমরা দালালদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। তারপরেও মানুষ দালালদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। আপনারা এদেরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিন।

About দেশ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow