Home / এক্সক্লুসিভ / কমলনগরে লাখ লাখ টাকায় সরকারী জমি প্রভাবশালীদের নামে বন্দোবস্ত!

কমলনগরে লাখ লাখ টাকায় সরকারী জমি প্রভাবশালীদের নামে বন্দোবস্ত!

কমলনগর থেকে (আমানত উল্যাহ): লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফজুমিয়ারহাট বাজারের সরকারী খাস দোকান ভিটি প্রভাবশালীদেরকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। প্রায় ৭০ বছর ধরে এক অসহায় লোকের দখলে থাকা ঐ দোকান ভিটি এক প্রভাবশালীকে টাকার বিনিময় বন্দোবস্ত দেয়া হয়। প্রভাবশালীরা ঐ জমিতে দোকানঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বন্দোবস্ত পাওয়া তালিকায় রয়েছে নুরুল ইসলাম ,সারওয়ার, সোহেল বাংগালী, আব্দুশ শহীদ, মিলন মিয়া, আনোয়ার হোসেন হিরন হাওলাদার, শাহজালাল মানিক, আব্দুল মালেক মেম্বার ও ডালিম কুমার শ্রীপদ প্রমুখ।

সারওয়ার জানান, এই ভিটিগুলো বন্দোবস্ত নিতে আমাদের প্রত্যেক লোকের প্রায় লক্ষাধিক টাকার মতো খরচ হয়েছে।আপনারা লেখালেখি করলে হয়তো বন্দোবস্ত বাতিল হয়ে যাবে। এ বিষয়ে লেখালেখি না করতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ জানান।

তৎকালীন সময়ে কর্মরত তহসিলদার, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও এসিল্যান্ড এই অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত বলে জানান এলাকাবাসী।

স্হানীয়রা জানান, সরকার ছিন্নমূল অসহায় মানুষের মাঝে সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের দোকান ঘর বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য নীতিমালা করলেও লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের ফজুমিয়ারহাট বাজারের খাস দোকান ভিটির জমি বন্দোবস্তে এই নীতিমালা মানা হয়নি। নতুন ১০টি দোকানঘর বন্দোবস্তে সম্পূর্ন প্রভাবশালীদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

খাসজমিতে দোকান ভিটি বন্দোবস্ত পাওয়া অনেকেরই ঐ বাজারে একাধিক দোকানঘর রয়েছে। এখন আবার একই কায়দায় টাকার বিনিময় তারাই পান ঐ খাস জমিতে দোকান ঘর। বার বার একই ব্যক্তি সরকারের খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ায় হতবাগ নিরীহ মানুষ। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে সরকারের। অনেকের নিজের নামে সরকারি খাস জমিতে দোকান ভিটি থাকায় তাদের আত্মীয় স্বজনদের নামে ঐ বাজারের দোকানঘর বন্দোবস্ত নেন।

চরকাদিরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায়, তৎকালীন তহসিলদার সানাউল্লার সময় ফজুমিয়ারহাট বাজারের ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি নতুন গলি নির্মাণ করার লক্ষ্যে সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত জমিতে দোকান ভিটির জন্য আবেদন করেন ঐ এলাকার প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিরা। এদের প্রত্যেকের নিজের নামে কিংবা আত্মীয় স্বজনদের নামে ফজুমিয়ারহাট বাজারে একাধিক দোকান ঘর থাকার পরেও রাতের আঁধারে সম্পূর্ণ গোপনীয় ভাবে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সরকারি অসাধু কিছু কর্মকর্তা তাদেরকে বন্দোবস্ত পাইয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

আবার অনেকেই টাকা দিয়েও দোকান ভিটি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ তৎকালীন তহসিলদার সানা উল্লা ও ফজুমিয়ারহাটের কিছু দালালের খপ্পরে পড়ে এই ভিটির জন্য ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা করে আরো প্রায় ১০ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। কিন্ত তাদের নামে কোন দোকান ভিটি বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি।

কিন্ত এই জমির ভিটিগুলো পূর্বে অন্য লোকজনের দখলে রয়েছে। বর্তমানেও তারা ভোগদখলে থেকে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মানুযায়ী আগের দখলে থাকা ব্যক্তি ঐ জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু তাদেরকে না জানিয়ে সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে তারা এই দোকান ভিটিগুলো বন্দোবস্ত নেন।

এলাকাবাসী ও বাজার ব্যবসায়ী ইসমাইল, স্বপন, আবুল হোসেন ও ইউছুপ জানান, উপজেলার ফজুমিয়ারহাট বাজার একটি বাণিজ্যক কেন্দ্র। জায়গার অভাবে এ বাজারে কোন টল ঘর ও পাবলিক টয়লেট করা যাচ্ছে না। অথচ সরকারী এই জমিতে টল ঘর ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার মত যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। তাই জনবহুল এই বাজারের উন্নয়নের স্বার্থে প্রভাবশালীদের নামে দেয়া জমির বন্দোবস্ত বাতিল করে একটি পাবলিক টয়লেট ও টল ঘর নির্মাণ করার দাবী এলাকাবাসী ও বাজার ব্যবসায়ীদের।

এ ব্যাপারে চরকাদিরা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল আলী বলেন, ঐ জায়গাতে টলঘর ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা যেতে পারে। কিন্তু এখন তো বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি পুদম পুষ্প চাকমা বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অন্জন চন্দ্র পাল বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্তা নেয়ার কথা জানান।

About দেশ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow