সংবাদ শিরোনামঃ
লক্ষ্মীপুরে এক গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টা এক যুবক গ্রেফতার  ***  মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষার পরিবর্তে অ্যাসাইনমেন্ট  ***  বিশ্বব্যাপী করোনা থেকে সুস্থ ৩ কোটি ৬ লাখ  ***  ড. কামাল অবসর নিন, মান্নান শান্তিগঞ্জের মন্ত্রী নন  ***  লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ-সংযোগের নামে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দালাল শাহআলম মাষ্টারে বিরুদ্ধে !!  ***  রায়পুরে সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন  ***  রায়পুরে উপ-নির্বাচন; প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম  ***  বিশ্বব্যাপী করোনা থেকে সুস্থ ৩ কোটি ১১ লাখ  ***  দৌলতদিয়ায় ৫ শতাধিক ট্রাক নদী পারের অপেক্ষায়  ***  নতুন আইনে গণধর্ষণের দায়ে ৫ জনের ফাঁসির আদেশ
Home / রাজনীতি / ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামক ঠ্যাংয়ের ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সরকার’

‘ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামক ঠ্যাংয়ের ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সরকার’

দেশখবর প্রতিবেদক: বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই ঠ্যাংয়ের (পা) ওপরে। দুই ঠ্যাংয়ের ওপরে নির্ভর সরকার। সেই দুই ঠ্যাংয়ের একটা হচ্ছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসী, আরেকটি হচ্ছে তাদের সাজানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই দুই পায়ের ওপরে সরকার দাঁড়িয়ে।’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যদের ‘ব্যঙ্গ করে’ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট কাহিনিনির্ভর কুরুচিপূর্ণ নাটক (সম্প্রতি প্রচারিত মান্নান হীরার ‘ইনডেমনিটি’ নাটক) প্রচারের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

রিজভী বলেন, ‘আজকে ক্ষমতার লোভে, হালুয়া-রুটির লোভে, কয়েকজন তথাকথিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা যাদের কোনো লেখা নাটক, কবিতা অথবা গান মানুষ কোনদিন শুনেছে কিনা জানি না, তারা একটা নাটক লিখেছে ‘ইনডেমনিটি’ নামে। একটা চটি, বস্তা পচা নাটক এটা, সেটা কি কেউ জানে না? কিন্তু যেহেতু ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগকে সন্তুষ্ট করতেই, সরকারকে সন্তুষ্ট করতেই এ নাটক বানানো হয়েছে। ধমক দিয়ে, হুমকি দিয়ে গণমাধ্যমকে বাধ্য করছে এ নাটক প্রচারের জন্য। এখানে সাংস্কৃতিককর্মী যারা আছেন, তাদের দু-একজনের সামান্য পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু নাটক লেখার মতো…..।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘যারাই নাটক লিখেছে তাদের নাম কি আপনারা কেউ শুনেছেন? শোনেন নাই। কত বিখ্যাত বিখ্যাত লোকের নাম আমরা শুনেছি। কিন্তু এদের নাম কেউ শোনেনি। কেউ যখন এগিয়ে আসেনি তখন এদেরকে ভাড়া করা হয়েছে। তারাও দেখেছে, আওয়ামী লীগ করলে টাকা পাচার করা যায়, ছাত্রলীগের নেতা শামীম ২ হাজার কোটি টাকা পাচার করতে পারে, তারাও ভেবেছে আমরাও একটু দালালি করে দেখি দু-তিন কোটি টাকা উপার্জন করা যায় কিনা। ওরা দেখে আওয়ামী লীগ করলে ঢাকা শহরে ৫২টি ক্যাসিনো চালানো যায় এবং কোটি কোটি টাকা ওখান থেকে উড়ে চলে যায় পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায়। তাই আমরাও চেষ্টা করি। জিয়াউর রহমান সেই মানুষ, যাঁর ঘোষণা না আসলে এ দেশের মানুষ দিক নির্দেশনাহীন থাকতো, মানুষকে যিনি দিশা দেখিয়েছেন, সেই তাকে অপমান করার জন্য এ নাটক লেখা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ‘ওরা নিজেদের বলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে। এসব সাংস্কৃতিকজীবীরা বেশি বেশি করে এসব কথা বলে। তারা এ নাটক লিখেছে। কারণ এর পেছনে আছে টাকার লোভ, হালুয়া-রুটি লোভ, পোলাও-মাংসের লোভ। আরেকদিকে এ সময়ের সাংস্কৃতিক বীর আবু সালেহ নির্দ্বিধায় বুক চিতিয়ে গুম, মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে তাদের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেছে। সরকার এ মামলা কখনও কোর্টে ঠিকতে দেবে না, কারণ কোর্ট তাদের, আদালত তাদের। বিরোধীদলকে শাস্তি দেয়ার জন্য, দমন করার জন্য আদালতকে তারা কসাইখানায় পরিণত করেছে। আবু সালেহ ‘সাংস্কৃতিক বীর’, আর এ নাটকটির সাথে যারা জড়িত তারা ‘সাংস্কৃতিক কাপুরুষ’।’

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘এই সরকার ডিক্টেটর নয়, নাৎসিবাদের পর্যায়ে চলে গেছে। ডিক্টেটর এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে পরাজিত করা যায়। কিন্তু নাৎসিবাদকে পরাজিত করার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত যুদ্ধের প্রয়োজন হয়। ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদ ঠেকাতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হয়েছে। তাহলে সেই ফ্যাসিস্ট গভমেন্ট এর বিরুদ্ধে,,,,। এই সরকারের পেছনে জনগণ নেই।’

রিজভী বলেন, ‘আজকে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম করতে হবে। সাংস্কৃতিক সংগ্রাম কিন্তু রাজনৈতিক সংগ্রামের থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক সংগ্রামে যদি ওই সাংস্কৃতিক পরজীবীদের আমরা প্রতিহত করতে না পারি তাহলে সার্বভৌমত্ব থাকবে না, স্বাধীনতা থাকবে না।’

রিজভী বলেন, ‘আমি সরকারকে বলতে চাই এবং আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক কর্মীদের বলতে চাই, আপনারা তো সরকারে আছেন, তাই নির্ভয়ে এটা করতে পারছেন। আর বিরোধীদল কথা বললে আপনারা জানেন এদের মিথ্যা মামলায় কারাগার, নাহলে গুম হতে হয়। সরকারের সাথে জনগণ নেই, আমাদের সাথে জনগণ আছে। আমাদের দেশের জনগণ আছে বলেই, এত অত্যাচার এত নিপীড়নের পরও আমরা আমাদের কণ্ঠে আওয়াজ তুলি। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়াসহ সারা বাংলাদেশে এই আওয়াজ উৎক্ষিপ্ত হয়। আপনারা ইতিহাস বিকৃত করবেন, করতে পারেন। তোমার নেতা শেখ মুজিব আমার নেতা জিয়া, তার নামেই তো আন্দোলিত টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। এই আওয়াজ আপনারা বন্ধ করতে পারবেন না। জিয়ার নামে, খালেদা জিয়ার নামে কলঙ্ক লেপন করবেন, কিন্তু আওয়াজ বন্ধ হবে না। আমরা এখনও শার্টের বোতাম খুলে তপ্ত সীসার বুলেট ধারণ করতে পারি। আমরা সেই জাতীয়তাবাদী বাহিনী যারা আপনার এত গুম-খুনের পরেও এখনও মাথা উঁচু করে মিছিল করি, আমরা আমাদের বক্তব্য রাখি, আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করি।’

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এ অত্যাচারের প্রতিশোধ একদিন জনগণ ঐতিহাসিকভাবে দিয়ে দিবে। অন্যায় করে বেশিদিন টিকে যায় না।’

তিনি বলেন, ‘যে লোক বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে, যে লোক স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে, যে লোক সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছে, যাঁর অবদানে আজ এত মিডিয়া তার বিরুদ্ধে নাটক রচনা করে, কুৎসা রটনা করছেন! আপনারা একদিন ইতিহাসের ডাস্টবিনে চলে যাবেন। জিয়াউর রহমান প্রদীপ্ত সূর্যের উদ্ভাসিত আলোর মতোই মানুষের হৃদয়ে থাকবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও উদ্ভাসিত থাকবেন মানুষের হৃদয়ে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাকীর হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

About দেশ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow