Home / এক্সক্লুসিভ / বিয়ের পর হঠাৎ ‘পাগল’, এরপর শিকলে বন্দী ১৫ বছর

বিয়ের পর হঠাৎ ‘পাগল’, এরপর শিকলে বন্দী ১৫ বছর

আলমগীর হোসেন (লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি): ইউসুফ নামের এক ব্যক্তি ১৫ বছর ধরে শিকলে বন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তিকে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে শিকলে বেঁধে রেখেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে ইউসুফকে চিকিৎসা করে সুস্থ করা সম্ভব।

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সসসেরাবাদ গ্রামের কমর উদ্দিন বেপারী বাড়ির দিনমজুর বাবুলের বড় ছেলে ইউসুফ। তিন সন্তানের মধ্যে ইউসুফ বড়।

তার মা আমেনা বেগম জানায়, বিয়ের পর থেকেই হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে সে। পরে তার স্ত্রী চলে গিয়ে অন্য জায়গায় বিয়ে বসে। কারণে অকারণে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করেন। এতে লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। অর্থাভাবে পরিবারের সদস্যরা তার চিকিৎসাও করতে পারে না। প্রায় সময় সে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসে না, বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা ইউসুফকে বাড়ির একটি রুমের ভিতরে শিকলে বেঁধে রাখে। শুনিছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী ও মানসিক রোগীদের ভাতার কার্ড দিতেছে যা সবাই পায়, আমার ছেলে ইউসুফ কেনো পায় না তা আমার জানা নেই।

মানসিক রোগী ইউসুফের বাবা বাবুল দিনমুজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। এভাবে পার হয়ে গেছে ১৫টি বছর।

বাবুল জানান, সংসার চালাতে লেবার হিসেবে মালবাহী গাড়ি থেকে মালামাল লোড আনলোডের কাজ করতে হয় তাকে। তারপরে ছেলে চিকিৎসা ওষুধ ও সংসার চালাতে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে। ছেলের চিকিৎসা করাতে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আমি আর পারছি না। লোক মারফতে জানতে পেরেছি সরকার নাকি শত ভাগ প্রতিন্ধী ও মানসিক রোগীদের ভাতার কার্ড দেয়, আমি কয়েকবার আবেদন করেও পাইনি। ভাতা কার্ডটি পেলে কিছু ওষুধের খরচ বাঁচতো।

পৌর ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কমিশনার হাছিনা আক্তার বলেন, সাংবাদিকে মাধ্যমে খবর পেয়ে ইউসুফকে দেখে আসছি। তাকে শিকলে বন্ধী রাখা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পাগল অবস্থায় শিকলে বন্দী রয়েছেন। প্রতিবন্ধী কার্ড পাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে যাচ্ছি বলেও জানান তিনি।

About Alamgir Hossain

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow