Home / Featured / দুই সিটির নির্বাচনী প্রচার শুরু আজ

দুই সিটির নির্বাচনী প্রচার শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১৩ প্রার্থী।

সংরক্ষিত ওয়ার্ডসহ ১৭২ পদের বিপরীতে ৭৪৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে ভোটের চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকলেন ৭৫৮ প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ছিল প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন যেসব প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন, তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তবে এখনো বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে রয়ে গেছেন।

এদিকে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। রাজধানীর এনআইএলজি মিলনায়তনে ঢাকা উত্তর সিটির এবং গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা উত্তরের মো. আতিকুল ইসলাম উত্তরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে প্রচারে নামবেন। আর ঢাকা দক্ষিণে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন থেকে প্রচার শুরু করবেন।

এর আগে সকালে দুই প্রার্থী ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

অপরদিকে বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা উত্তরে তাবিথ আউয়াল উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে জুমার নামাজ আদায় করার পর প্রচার শুরু করবেন। দক্ষিণে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন প্রতীক পাওয়ার পর প্রয়াত বাবা সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কবর জিয়ারত করে প্রচারে নামবেন।

দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ১২৩ জন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে ১২ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং ১১১ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী।

এই সিটিতে মেয়র পদে ৬ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ১৮টি পদে ৭৭ জন ও সাধারণ ৫৪টি ওয়ার্ডের বিপরীতে ২৫১ জন অর্থাৎ ৩৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৪৭০ জন।

এর মধ্যে কয়েকজনের প্রার্থিতা বাছাইয়ে বাতিল হয়। উত্তরে চূড়ান্ত লড়াইয়ে মেয়র পদে আছেন- আওয়ামী লীগের মো. আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আউয়াল, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) শাহীন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হক।

দক্ষিণে ২০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও ১২৫ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন জানিয়েছেন।

এ সিটির মেয়র পদে ৭ জন, ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৮২ জন ও ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৩৫ জন মোট ৪২৪ জন চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে থাকলেন। যদিও এ সিটিতে মোট ৫৬৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

বেশ কয়েকজনের প্রার্থীতা বাছাইয়ে বাদ পড়েছে। এ সিটিতে মেয়র পদে লড়ছেন- আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির হাজী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মিলন, গণফ্রন্টের আবদুস সালাম সুজন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির বাহারানে সুলতান বাহার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুর রহমান ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের আখতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ।

ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম বলেন, নির্বাচন একটি উৎসব। আমরা চাই না এর মধ্যে কেউ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ুক। আমি সবাইকে আচরণবিধি মেনে নির্বাচনে প্রচারে অংশ নিতে আহবান জানাই।

এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কাউন্সিলর পদে সব ওয়ার্ডে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারেনি বড় দু’দল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও নগর নেতাদের তৎপরতায় কিছু ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছে। তবে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডেই দু’দলে রয়ে গেছে একাধিক প্রার্থী।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে দু’দলই। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে উভয় দলের নীতিনির্ধারকরা।

বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের আমরা বুঝিয়েছি। অনেকেই প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।

বিএনপির কাউন্সিলর বাছাই সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ডের সমন্বয়ক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী দেয়ার জন্য। তবে কোনো কোনো ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তাদের ব্যাপারে দলের স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।

দেশ খবর/এনকে

About দেশ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow