সংবাদ শিরোনামঃ
রায়পুরে স্বর্ণ-টাকা নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী উধাও  ***  লক্ষ্মীপুরে এক গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টা এক যুবক গ্রেফতার  ***  মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষার পরিবর্তে অ্যাসাইনমেন্ট  ***  বিশ্বব্যাপী করোনা থেকে সুস্থ ৩ কোটি ৬ লাখ  ***  ড. কামাল অবসর নিন, মান্নান শান্তিগঞ্জের মন্ত্রী নন  ***  লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ-সংযোগের নামে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দালাল শাহআলম মাষ্টারে বিরুদ্ধে !!  ***  রায়পুরে সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন  ***  রায়পুরে উপ-নির্বাচন; প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম  ***  বিশ্বব্যাপী করোনা থেকে সুস্থ ৩ কোটি ১১ লাখ  ***  দৌলতদিয়ায় ৫ শতাধিক ট্রাক নদী পারের অপেক্ষায়
Home / এক্সক্লুসিভ / ‘আমাদের কান্না, কেউ কখনো দেখে না’

‘আমাদের কান্না, কেউ কখনো দেখে না’

আমরা সমাজে মাথা উঁচু করে চলি। সামাজিকতা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ব্যর্থ হই। আমরা সবার সামনে হাসিখুশি থাকি। আমরা কখনো ৩ বেলা, কখনো ২, আবার কখনো ১ বেলা খেয়েই দিন পার করি। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে খেয়েছেন? না খেয়েও মুচকি একটা হেসে বলি মাত্রই খেয়ে আসলাম। লকডাউনের সাথে আমাদের সম্পর্কটা অনেক আগে থেকেই। কারণ লকডাউন কি তা আামাদের ক্ষুধার্ত পেট ভালো করেই জানে। যদিও বিশ্ববাসী লকডাউন নামক শব্দটার সাথে মাত্রই পরিচিত হলো।

আরো পড়ুন: দয়া করে এবার একটু থামেন

আমাদের পেটটা অনেক বেশি ধৈর্য ধরতে জানে, সাথে আমাদের চোখটাও। কারণ আমরা মধ্যবিত্ত। আমাদের এই চোখ জীবনে অনেক ত্রাণ বিতরণ দেখেছে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় পেট যখন চটপট করছে তখনো চোখ ধৈর্য ধরেছে। ত্রাণ বিতরণ দেখেও না দেখার ভান করে চলে এসেছে। তারপরেও ত্রাণ নিতে যায়নি। চোখের এমন ধৈর্য দেখে পেটটাও ধীরে ধীরে ধৈর্য ধরা শিখে গেছে। এখন প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়েও সে হাসতে জানে। যদিও রাতের আধারে, লোক চক্ষুর আড়ালে বুক ভাসায় চোখের জলে। হাজারো কষ্ট নিয়ে আল্লার কাছে দু হাত তুলে মোনাজত করে প্রতিনিয়ত। মোনাজাতে তারা কি বলে জানেন?

আরো পড়ুন: ‘তারপরেও তো অসহায় মানুষ কিছু পাচ্ছে’

আল্লাহর কাছে মোনাজাতে বলে, হে আল্লাহ আমাদেরকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করো। সরকার দরিদ্রদের জন্য অর্থ কিংবা ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ করলেও আমাদের জন্য কেন করে না? তারা কি আমাদেরকে দেখে না? তারা না হয় দেখে না কিন্তু সমাজের উচ্চবিত্তরা কি আমাদের দেখে না? তারা কি জানে না আমরা প্রতিনিয়ত মিথ্যা অভিনয় করে যাচ্ছি! আমরা ক্ষুধার্ত থেকেও খাওয়ার ভান করে চলি। আমরা না হয় বলতে পারি না, আমরা না হয় চাইতে পারি না কিন্তু তারা কি আমাদের সম্পর্কে জানে না? আমরা চক্ষু লজ্জায় তাদের কাছে চাইতে পারি না তাই বলে তারা কি আমাদেরকে কিছু দিবে না?

আরো পড়ুন: অসামাজিকতাই করোনা সচেতনতা!

কথাগুলো হয়তো অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। কিন্তু আমি জানি। কারণ আমিও একজন মধ্যবিত্ত। আমার আশপাশের অধিকাংশ মানুষই মধ্যবিত্ত। ছোটবেলা থেকে আমার চলাপেরা এই মধ্যবিত্তদের সঙ্গেই। আমি দেখেছি তাদের পরিবারে অবস্থা। আমি দেখেছি তাদের হাহাকার। আমি জানি কিভাবে একজনের খাবার তিনজনে ভাগ করে খেতে হয়। আমি জানি সামান্য খাবার খেয়ে কিভাবে দিন পার করতে হয়। আমি জানি উপোস থেকেও কিভাবে নিজেকে সংযত রাখতে হয়। আমি জানি হাজারো কষ্টে থেকেও অন্যের কাছে কিভাবে সুখী সাজতে হয়। উপোস থাকা অবস্থায় কিভাবে গুমিয়ে পড়তে হয় তাও আমি জানি। আর এটাও জানি ‘আমাদের কান্না কেউ কখনো দেখে না’।

লেখক: মোহাম্মদ নাঈম কামাল

About দেশ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow