ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২১ জৈষ্ঠ্য ১৪২৯, ১২ রজব ১৪৪৪

‘বাংলাদেশে রাজনীতি বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই’



‘বাংলাদেশে রাজনীতি বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই’

বাংলাদেশে রাজনীতি বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জিয়া প্রজন্মদলের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, তারা রাজনীতি বলতে যা বুঝি, মানুষের কল্যাণ করা, তাদের সেবা দেওয়া, তাদের উন্নয়ন করা এবং সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোট নিয়ে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে দেশকে পরিচালনা করা।

‘বাংলাদেশের রাজনীতি বলতে অঘোষিত দুর্নীতি’ বলে মন্তব্য করে মঈন খান বলেন, পাকিস্তান আমলে ছিল ২২ পরিবার। এখন এই আওয়ামী লীগই ২২০ পরিবার সৃষ্টি করেছে। অথচ এরা দীর্ঘবছর ক্ষমতায় থেকেও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এ ধারা থেকে বের হতে না পারলে এই স্বাধীনতা অর্থহীন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন রাষ্ট্রে বিরুদ্ধে যদি কেউ কথা বলে, সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ হয়। কিন্তু কোনো দলের বিরুদ্ধে কথা বললে সেটা কিভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ হয়? সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে, সেটা কিভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ হয়? বিএনপির কেউ তো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে না। বিএনপি তো সরকার ও আওয়ামী লীগের ভুল কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে। এটা তো সাংবিধানিক অধিকার।

সরকার দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে উল্লখ করে মঈন বলেন, বিচার বিভাগ অবস্থা দেখুন, সরকার যেভাবে রায় লিখে দেয়, শুধু তা পাঠ করে। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে প্রশাসন তৈরি করা হয়, তাও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয় কে আওয়ামী লীগ করে। পুলিশ বিভাগকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তারা যত দুর্নীতি করুক, সরকার তাদের রক্ষা করবে, সব কিছু মাফ। এ দেশ এখন পুলিশি রাষ্ট্র। নির্বাচন কমিশন, ভোটের ফলাফল আগে রাতেই লিখে সই করে দেয়। মিডিয়ার কী স্বাধীনতা আছে?

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন রুবেলের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।


   আরও সংবাদ