ঢাকা, শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৯ আশ্বিন ১৪২৮, ২ জ্বিলক্বদ ১৪৪২

আবারো আলোচনায় মুফতি কাজী ইব্রাহীম



আবারো আলোচনায় মুফতি কাজী ইব্রাহীম

করোনা নিয়ে মামুন মারুফ নামে এক জনৈক ব্যক্তির স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে আলোচনার তুঙ্গে ছিলেন জনপ্রিয় আলেম মুফতি কাজী ইব্রাহীম। এবার ২০২১ সালে ফের আলোচনায় এসেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, চায়ের দোকান, অফিস, আদালত, বন্ধুদের আড্ডা কোথায় নেই তাকে নিয়ে আলোচনা। সবখানেই তাকে নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। এক কথায় বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন জনপ্রিয় এই আলেম।

২০২০ সালে যখন বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ শুরু হয় তখন করোনা নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন মুফতি কাজী ইব্রাহীম। যদিও তিনি বলেছিলেন মামুন মারুফ নামে জনৈক এক ব্যক্তির স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। যার দায়-ভার তিনি নিবেন না। স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে বেশ বিতর্কের জন্ম দেন এই আলেম। একসময়ের হাজারো ভক্ত পরিনত হয় সমালোচক হিসেবে। আলেম সমাজেও তুমুল সমালোচনার শিকার হতে হয় তাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে শুরু হয় বিশ্লেষণ। তবে এক শ্রেণির মানুষ এতকিছুর পরও তার পক্ষে যুক্তি উপস্থান করতে থাকে। নানানভাবে সমালোচনাকারীদের জবাব দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন তারা। যদিও কোনভাবেই মন ভরেনি সমালোচকদের। যে যেভাবে পেরেছেন সেভাবেই তার বিরুদ্ধে লিখেছেন। এক কথায় তাকে নিয়ে শুরু হয় ট্রল।

তাকে নিয়ে যখন এত সমালোচনা তখনও তিনি তার বক্তব্যে ছিলেন অনড়। বেসরকারি একটি টেলিভিশন তার এই বক্তব্যের বিষয়ে একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। যেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো তিনি কি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন? তখন তিনি বলেছিলেন আমি আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করবো না। এবং তিনি প্রত্যাহার করেনওনি। বরং তার বক্তব্যের পক্ষে নানান যুক্তি তুলে ধরেন সাংবাদিকের কাছে।

কি ছিলো মামুন মারুফের সেই স্বপ্নে?

মুফতি কাজী ইব্রাহীম বলেছিলেন মামুন মারুফ তাকে ফোনে বলেছিলেন করোনা স্বপ্নযোগে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছে। স্বপ্নে তাকে শিহরন জাগানো সব তথ্য দিয়েছে। মামুন মারুফ তাকে বলেছিলেন করোনা দেখতে অনেকটা কদম ফুলেল মতো। যা শুরুতে আক্রমণ করবে চীনকে। আক্রমণ করার জন্য চীনকেই কেন বেঁচে নিলো মামুন মারুফের এমন প্রশ্নের জবাবে করোনা তাকে বলেছিলো চীনের উইঘুরে মুসলিমদের উপর নির্যাতনের কারণে আল্লাহ সেখানে আক্রমণ চালানোর আদেশ দিয়েছেন। যেখানে একটি অবরুদ্ধ যায়গায় বিশ্ববাসীর আড়ালে মুসলিমদের নির্যাতন করা হচ্ছে। যেখানে একজন মুসলিম নারীকে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেছে, পাহারা দিয়েছে আরো দুইজন। তার চিৎকার এবং ফরিয়াদ আল্লাহ সুনেছিলেন। যার কারণে আল্লাহ করোনাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন গজব হিসেবে। শুরুতেই ধর্ষণের সাথে যুক্তদের আক্রমণ চালিয়ে তাদের প্রাণ তেড়ে নিয়েছে করোনা। এরপর থেকে চড়াতে শুরু করে এই ভাইরাস।

পরিকল্পনা সম্পর্কে করোনা মামুন মারুফকে জানিয়েছিলেন তারা এখন কোভিড ১৯ এ আছে। ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হয়ে আক্রমণ চালাবে ভারত, ইতালিতে। ভারতকে একেবারে লণ্ডভণ্ড করে দিবে। ভারতের নিচ থেকে আক্রমণ চালাবে বলেও জানিয়েছিলো করোনা। নিচ থেকের ব্যাক্ষায় মামুন মারুফ বলেছিলেন নিচ থেকে বলতে দিল্লীকে বোঝানো হয়েছে। দিল্লী থেকে শুরু হয়ে কাশ্মীরের উপর দিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাবে এই ভাইরাস। তবে ভারত নিয়ন্ত্রিত এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কোন কাশ্মীরেরই তেমন ক্ষতি করবে না করোনা। তিনি সেখানে বলেছিলেন দুই কাশ্মীর মিলেই একটি ইসলামী রাষ্ট্র তৈরি হবে। পাকিস্তানে যারা মুনাফিক এবং কোরআন বিরোধী তাদেরকে করোনা ছাড়বে না। বিশ্বব্যাপী শুরুতেই মৃত্যুর হার অনেক বেড়ে যাবে। যা স্বপ্নযোগে করোনা নিজেই মামুন মারুফকে জানিয়েছিলো।

আফগানিস্তানে যারা আছে তারা ইমাম মাহদীর বাহিনী তাই তাদেরকে কিছু করবে না করোনা। ইহুদীদেরকে আক্রমণ করবে না কারণ তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয় নাই। ইহুদীদেরকে মারবে ঈসা (আ.)। তবে বায়তুল মোকাদ্দাসের আশপাশের ইহুদীদেরকে আক্রমণ করবে এই ভাইরাস। যাতে করে বায়তুল মোকাদ্দাস মুসলিমদের হাতে চলে আসে।

নতুন করে তিনি আলোচনায় কিভাবে এলেন?

ভারতে শুরু হয়েছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। প্রতিদিনই শনাক্ত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। হাসপাতালে ঠাই হচ্ছে না রোগীদের। এক বেডেই স্থান হচ্ছে ২ রোগীর। মারা যাচ্ছে হাজার হাজার। শশ্মানে যায়গা হচ্ছে না মৃতদের। এক নাগাড়ে পোড়ানো হচ্ছে লাশ। তারপরও শশ্মানে দীর্ঘ লাশের সারি। শশ্মানে যায়গা না পেয়ে খোলা মাঠে বানানো হয়েছে চিতা। সেখানেও পোড়ানো হচ্ছে লাশ। এক কথায় করোনায় লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে ভারতকে।

সবচেয়ে বেশি শনাক্ত ও মৃত্যু হচ্ছে দিল্লীতে। মামুন মারুফও বলেছিলেন করোনা দিল্লী থেকে ভয়াবহ রুপ নেয়া শুরু করবে। তার এই বক্তব্যের সাথে ভারতের বর্তমান অবস্থা মিলে যাওয়ায় ফের আলোচনায় আসেন তিনি। যারা পূর্বে তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলো এবারের আলোচনায় তার ভক্তরা তাদেরকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে পোষ্ট করা শুরু করেছেন। যা বিগত কয়েকদিন থেকেই আলোচনার তুঙ্গে। ফেসবুক খুললেই নিউজ ফিডে মুফতী কাজী ইব্রাহীমের ভাইরাল সেই ভিডিওই চোখে পড়ে সবচেয়ে বেশি। যারা তারা সমালোচনা করেছিলেন তাদের মধ্য থেকে অনেকেই তার পক্ষে পোষ্ট করছেন।

আবার অনেকেই তাদের পূর্বের বক্তব্যেই অটল রয়েছেন। এখনো তারা বক্তব্যকে সমর্থন করতে পারছেন না। তারা বলছেন একজন জনপ্রিয় আলেম হয়ে জনসম্মুখে এভাবে জনৈক ব্যক্তির স্বপ্নের ব্যাক্ষা তিনি দিতে পারেন না।


   আরও সংবাদ