ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২১ জৈষ্ঠ্য ১৪২৯, ১২ রজব ১৪৪৪

রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রা, জম্মুতে জোড়া বিস্ফোরণ



রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রা, জম্মুতে জোড়া বিস্ফোরণ

একদিকে আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবস, একই সময় উপত্যকায় চলছে ভারত জোড়ো যাত্রার শেষ পর্ব। এমন সময় জোড়া বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো ভারতের জম্মু-কাশ্মীর।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, জম্মুর নারওয়াল শিল্পাঞ্চলে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ঘটে ভয়ংকর জোড়া বিস্ফোরণ। জোরালো বিস্ফোরণে সৌভাগ্যক্রমে কেউ নিহত না হলেও গুরুতর আহত হয়েছেন মোট ৭ জন। বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরেই ছিল রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা।

জম্মু পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল মুকেশ সিং জানিয়েছেন, নারওয়াল এলাকাটি শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নারওয়ালের ট্রান্সপোর্ট নগরের ৭ নম্বর ইয়ার্ডে দু’টি গাড়ির মধ্যে বিস্ফোরণ হয়েছে। কীভাবে বিস্ফোরণ হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।

বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফরেনসিক টিম। উপত্যকাজুড়ে চলছে নাকা তল্লাশি। ১২৭ দিন আগে তামিলনাড়ু থেকে শুরু হওয়া কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জানুয়ারি কাশ্মীরের শ্রীনগরে। নির্ধারিত সময়ে বৃহস্পতিবার তা প্রবেশ করেছে জম্মু ও কাশ্মীরে। শনিবার (২১ জানুয়ারি) ভারত জোড়ো যাত্রার বিশ্রাম ছিল। এর মাঝেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। যার জেরে রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা বেড়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা জানান, আহতদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন উপরাজ্যপাল তথা লেফটেন্যান্ট গর্ভনর মনোজ সিনহা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উধমপুর বিস্ফোরণেও এই ধরনের আইইডি ব্যবহার করা হয়েছিল। এর পেছনে থাকতে পারে সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা। তবে বিস্ফোরণের দায় এখনো কেউ স্বীকার না করায় কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটালো, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ভারত যখন প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত, ঠিক সেইসময়ই দিল্লিতে জঙ্গি হামলার হুমকি দিলো খালিস্তানপন্থি সংগঠন শিখ ফর জাস্টিস (এসজেএফ)! সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে এই সংগঠনের নেতা গুরুপন্ত সিং পান্নু ‘২০২৩ সালে পাঞ্জাবকে ভারত থেকে মুক্ত’ করার দাবি জানান। প্রজাতন্ত্র দিবসেই যে হামলার ছক কষছে তারা, তা গুরুপন্তর ভিডিও থেকে স্পষ্ট।

তিনি বলেন, ‘২৬ জানুয়ারি বাড়িতে থাকুন, না হলে এসজেএফের বাধার মুখে পড়তে পারেন।’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। এরপরই যোগ করেছেন, দিল্লি আমাদের লক্ষ্য হবে। আমরা খালিস্তানের পতাকা উত্তোলন করব। শুধু তাই নয় যদি কেউ লাল কেল্লায় খালিস্তান পতাকা উত্তোলন করেন তবে তাকে ৫ লাখ ডলার দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন গুরুপন্তর। এরপরই দিল্লি, পাঞ্জাবসহ উত্তরপূর্ব ভারতের সব রাজ্যেই জারি করা হয়েছে চরম সতর্কতা।


   আরও সংবাদ