ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
শিক্ষায় অসঙ্গতি-৪ 

এতো প্রাইভেট কেন?



এতো প্রাইভেট কেন?

রেজাউল করিম

অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকাল ১০টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত ক্লাস নেয়া হয়। এরপরও এতো প্রাইভেট পড়তে হয় কেন? বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের। বিশ্বে এমন কিছু রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা আছে যেখানে বই বাড়িতে দেওয়া হয় না। তাদের ধারণা, স্কুল পড়ালেখার জায়গা। বই থাকবে স্কুলে। বই বাড়িতে নেবে কেন? বাড়িতে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত কাজ করবে। অথচ আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টানা ৬ ঘণ্টা পড়ালেখার পরও বাড়িতে পড়তে হয়। এমন কি একাধিক প্রাইভেট টিউটর রাখে শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু এতো প্রাইভেট পড়তে হবে কেন? এতোই যদি প্রাইভেট পড়তে হবে তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি শেখায়? দেখা গেছে কয়েকটি কারণে শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রাইভেট রাখে। প্রথমত, শিক্ষার্থীরা অতিমাত্রায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে হতাশ হয়ে প্রাইভেট পড়ে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু শিক্ষক বিভিন্ন সুযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেটমূখী করে থাকে। কেউ আবার পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়া আশ্বাস দেন। আবার কেউ পাবলিক পরীক্ষার হলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রাইভেটমূখী করেন। যদিও সরকারি নীতিমালায় বলা আছে নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো যাবে না। সরকারি তদারকি না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষক এই নিয়ম মানছেন না। তৃতীয়ত, দেখাদেখি। প্রাইভেট রাখার প্রতিযোগিতা। পাশের বাড়ির বন্ধু একাধিক প্রাইভেট শিক্ষক রাখলে আরেক বন্ধুও একাধিক প্রাইভেটের প্রতি ঝুঁকে পড়ে।

স্কুলে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস করলে তার অতিরিক্ত প্রাইভেট লাগার কথা না। কারণ যেকোন শিক্ষকের কাছে প্রশ্ন করলে অবশ্যই উক্ত শিক্ষক বুঝিয়ে দিবে। এরপরও প্রাইভেট প্রয়োজন হলে একটি কোচিং বাছাই করতে পারে। আশ্চর্যের বিষয়, স্কুল, কোচিংয়ে পড়ার পরও শিক্ষার্থী একাধিক প্রাইভেট পড়ছে। তখন হিতে বিপরীত হচ্ছে। একই বিষয় একাধিক নিয়মে ক্লাস পাওয়ায় শিক্ষকতা সাংঘর্ষিক হচ্ছে। ভিন্ন কৌশলে পড়ানোয় শিক্ষার্থী কাকে ফলো করবে এ নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হচ্ছে।
যদি একাধিক প্রাইভেট পড়ার ইচ্ছে থাকে সেক্ষেত্রে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক রাখা যেতে পারে। অথচ শিক্ষার্থী তা না করে একই বিষয় একাধিক শিক্ষকের কাছে পড়ছে। বাসায় হোম টিউটরও রাখা যেতে পারে। যে স্কুল বা কোচিংয়ের হোমওয়ার্ক কমপ্লিট করে দিবে।

অথচ শিক্ষার্থী সারাদিন ঝান্ডুদার মতো একবার প্রাইভেটে যাচ্ছে, আবার আসছে। এতে শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে। সারাদিন প্রাইভেটে সময় দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত প্রাইভেট না পড়ে স্কুলের পর বেশি সময় পড়ার টেবিলে দিলে মেধা বিকাশ সম্ভব। এরজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়াটা জরুরী। 

লেখক- সংবাদকর্মী


   আরও সংবাদ