ঢাকা, সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ১০ মহররম ১৪৪৪

রেমিট্যান্সে বাঁধা এক্সচেঞ্জ ফি!



রেমিট্যান্সে বাঁধা এক্সচেঞ্জ ফি!

 

 
ব্যাংকের চেয়ে হুন্ডিতে সুবিধা বেশি
হুন্ডি ব্যবসায়ীরা পারলে সরকার পারে না কেনো?
এক্সচেঞ্জ ফি মওকুফের দাবি
বিমানবন্দরে হয়রানী বন্ধ করুন
প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিন
লাশ সরকারি খরচে দেশে আনুন

তিনিয়তই বাড়ছে ডলারের চাহিদা। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম। মান হারাচ্ছে দেশীয় মুদ্রা টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলোকে দেয়া হচ্ছে ডলার সহায়তা। এতে কমছে ডলার, বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এযাবৎকালের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। সদ্য শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ হাজার ৩২৪ কোটি ডলার। তবে সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে রেকর্ড প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। এতে কিছুটা স্বস্তি জাগালেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই বিপুল পরিমান রেমিট্যান্স আসে দেশে। তাই এতে স্বস্তির কিছু নেই। এখন আর সামনে ঈদ নেই। তাই রেমিট্যান্স কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রবাসীরা বলছে সরাকার যদি কিছুটা সুযোগ-সুবিধা বাড়য়ে দেয় তাহলে রেমিট্যান্স আগের তুলনায় অনেকটা বেড়ে যাবে।

রেমিট্যান্স পাঠান এই আহবান সবাই করে। বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে দেখি না। একটা ট্রলি পর্যন্ত নিয়ে বাহিরে গাড়ি পর্যন্ত আসা যায় না

 বাহরাইন প্রবাসী ফয়সাল রেজা

লক্ষ্মীপুরের আকাশ চন্দ্র পাল। তিনি এখন সিঙ্গাপুর প্রবাসী। এর আগে দুবাইতেও প্রবাসী হিসেবে ছিলেন। তার সাথে কথা হয় নিজস্ব প্রতিবেদক নাঈম কামালের। আকাশ দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, আমার সাথে কাজ করেন ১২ বাংলাদেশী প্রবাসী। এদের মধ্যে ১০ জনই দেশে টাকা পাঠায় হুন্ডির মাধ্যমে। আমরা দুইজন ব্যাংকে পাঠাই। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা আমাদেরকেও নানাভাবে প্রলোভন দেখায়। তারা বলে সরকার আপনাদের জন্য কি করছে? টাকা পাঠাবেন সেখান থেকেও এক্সচেঞ্জ ফির নামে ডলার কেটে রাখে। আমরা তো কোনো ফি নিচ্ছি না বরং বাড়তি টাকা দিচ্ছি। এছাড়াও নানা ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলে। মাঝে মাঝে মনে হয় হুন্ডিতেই টাকা পাঠাই। পরে দেশের কথা চিন্তা করে আর পাঠাই না।

আকাশ পাল বলেন, ব্যাংকে টাকা পাঠালে এক্সচেঞ্জ চার্জ বাবদ ব্যাংকগুলো ৫ ডলার কেটে নেয়। হুন্ডিতে এই চার্জ নেই। তার উপরে তারা বাড়তি লাভও দিয়ে থাকে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা যদি লাভ বেশি দিতে পারে ব্যাংকগুলো কেনো পারে না? প্রবাসীদেরকে আড়াই শতাংশ প্রনোদনা দেয়া হচ্ছে। একজন প্রবাসী দেশে ১০ হাজার টাকা পাঠালে প্রনোদনা পায় ২৫০ টাকা (ডলার ৯৪ টাকা হিসেবে)। কিন্তু এই ১০ হাজার টাকা পাঠাতে তাকে এক্সচেঞ্জ ফি বাবদ দিতে হয় ৪৭০ টাকা। তাহলে ব্যাংকগুলো আমাদের কাছ থেকে নিচ্ছে ৪৭০ টাকা আর দিচ্ছে ২৫০ টাকা। তাহলে একজন প্রবাসীর ২২০ টাকা বাড়তি যাচ্ছে। এদিকে হুন্ডিতে টাকা পাঠালে এই ৪৭০ টাকা দিতে হচ্ছে না। বরং তারা বাড়তি টাকা দিচ্ছে। এতে করে আমাদের মতো প্রবাসীরা হুন্ডিতে টাকা পাঠাচ্ছে বেশি। যে কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ছে।

সব অভিমান ভুলে দেশের কথা, পরিবারের কথা ভেবে বৈধ পথে টাকা পাঠান। এতে অর্থনীতি ভালো থাকবে, দেশ ভালো থাকবে এবং সর্বোপরি আপনার পরিবার ভালো থাকবে

অর্থনীতিবিদ আবু আলম শাহিদ চৌধুরি

বাহরাইন প্রবাসী ফয়সাল রেজা বলেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠান এই আহবান সবাই করে। বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে দেখি না। একটা ট্রলি পর্যন্ত নিয়ে বাহিরে গাড়ি পর্যন্ত আসা যায় না।

নোয়াখালীর জাবেদ হোসাইন। এই প্রবাসী নয় বছর ধরে থাকেন সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে। কাজ করেন সে দেশি একটি কোম্পানীতে। তার সাথে কথা হয় দৈনিক আনন্দবাজারের। জাবেদ বলেন, প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয়। পরিশ্রমের টাকা দেশে পাঠাই। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ে আমাদের টাকায়। এই নয় বছরে একবারো ব্যাংক ছাড়া টাকা পাঠাইনি। তবে আমার সাথে কাজ করা অনেকেই পাঠায়। আমার চেয়ে তাদের লাভ বেশি। তাদের খরচ দিতে হয় না। বরং বাড়তি টাকা পায়। অথচ আমি টাকা পাঠাতে ব্যাংক আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকার মতো কেটে রাখে। যদিও আড়াই শতাংশ প্রনোদনা দেয়। আমার টাকায় আমাকে প্রনোদনার ব্যবস্থা করেছে সরকার। প্রনোদনা না দিয়ে চার্জ কাটা বন্ধ করা দরকার। এতে করে যারা হুন্ডিতে টাকা পাঠায় তারা ব্যাংকে পাঠাতে চাইবে বলে ধারণা এই প্রবাসীর। 

ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। চাইলে একজন প্রবাসী ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারেন। কিন্তু যারা হুন্ডিতে টাকা পাঠায় তারা তো এ সুযোগ পাচ্ছে না

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জাবেদ বলেন, পাসপোর্ট করা থেকে শুরু করে পুলিশ ভেরিফিকেশন, ভিসা প্রসেসিং, টিকিট, বিমানবন্দর কোথায় নেই হয়রানী। সবখানেই আমাদের সাথে ব্যবহার করা হয় পশুর মতো। বাড়তি টাকা না দিলে কোথাও সেবা মিলে না। বিমানবন্দরে ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসও নিয়ে যায় সেখানকার অনেকে। কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে কিছু বলছেন না। সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, একজন প্রবাসী যদি বিদেশে মারা যায় সরকার তার দ্বায় পর্যন্ত নিতে চায় না। এ ব্যপারে কেউ সহায়তাও করে না। প্রবাসীর নিজের টাকায় দেশে লাশ নিয়ে যেতে হয়। এর থেকে বড় কষ্ট আর হতে পারে না। তাহলে প্রবাসীরা দেশের কথা কেনো ভাববে? তারা হুন্ডির বাড়তি লাভ বাদ দিয়ে কেনো ব্যাংকে টাকা পাঠাবে? এতো কিছুর পরও প্রবাসীরা ব্যাংকে টাকা পাঠায়। অনেকেই হয়তো পাঠায় না। তাদের অথিকাংশই আমাদেরকে বলে ব্যাংকে কেনো টাকা পাঠাই? সরকার কি আমাদের দিকে চায়? তখন আমারও ক্ষোভ হয়। হুন্ডিতে টাকা পাঠাতে মন চায়। তবুও দেশকে ভালবেসে পাঠাই না। এমন গল্প আর দেশের সিস্টেমের প্রতি ক্ষোভ শুধু আকাশ আর জাবেদের না। এমন ক্ষোভ অসংখ্য বাংলাদেশী প্রবাসীর। তাদের প্রত্যেকেরই দাবি সরকার যেনো তাদের দিকে একটু সু-নজর দেয়।

এসব বিষয়ে কয়েকজন অর্থনীতিবিদদের সাথে কথা হয় দৈনিক আনন্দবাজারের সাথে। তারা বলছেন সরকারের এসব বিষয়ে নজর দেয়া উচিৎ। বিশেষ করে দেশের এই দুঃসময়ে প্রবাসীদের কথা একটু বেশি করে ভাবা উচিৎ। যেসব যায়গায় তারা হয়রানীর শিকার হচ্ছে সেখানেই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এক্সচেঞ্জ ফি মওকুফ করা দরকার বলেও মনে করছেন অনেকে। 

সরকারের আড়াই শতাংশ প্রনোদনায়ও আগ্রহ নেই অনেক প্রবাসীর। ব্যাংকে এক্সচেঞ্জ ফি বাবদ যে টাকা কাটা হচ্ছে তা কমিয়ে আনা দরকার

অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আইনুল ইসলাম।

অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আইনুল ইসলাম দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, ডলার সংকট কাটাতে সরকার বিলাসী পন্যের আমদানি কমানোর পাশাপাশি রেমিট্যান্সে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের এমন উদ্যেগ রিজার্ভের উপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। প্রবাসীদের আয় অনেকাংশে কমে গেছে জানিয়ে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, এ কারণে রেমিট্যান্স অনেকটা কমে গেছে। এছাড়া এখনো অনেকেই হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাচ্ছে। সরকারের আড়াই শতাংশ প্রনোদনায়ও আগ্রহ নেই অনেক প্রবাসীর। ব্যাংকে এক্সচেঞ্জ ফি বাবদ যে অর্থ কাটা হচ্ছে হুন্ডিতে কিন্তু তা কাটা হচ্ছে না। বরং হুন্ডিতে এ অর্থ না কেটেই ৪ থেকে ৫ শতাংশ বাড়তি টাকা দেয়া হচ্ছে। আমার জানামতে এখন আর এ এক্সচেঞ্জ ফি কাটা হচ্ছে না। যদি নেয়া হয় তাহলে সরকারের উচিৎ এ ফি কমিয়ে আনা। আশা করছি সরকারের এ পদক্ষেপের প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্সে। প্রবাসীরা টাকা পাঠাবে ব্যাংকে।

ড. আইনুল ইসলাম বলেন, দেশের এই দুঃসময়ে যেখানে ব্যাংকগুলোকে পাশে দাঁড়ানোর কথা সেখানে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। তারা এখন শেয়ার বাজারে টাকা ব্যয় না করে ডলার মজুদ করছে। অথচ তাদের এমন করার কথা না। ডলার তো ব্যবসা করার জন্য না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর দ্বায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিং টিমের সক্ষমতা কম। তারা মনিটরিংয়ে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না। এদিকে কঠোর নজরদারি করতে হবে। তাহলে ডলারের অস্থিরতা কমে যাবে। 

অর্থনীতিবিদ আবু আলম শাহিদ চৌধুরি দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, ডলার সংকট কাটাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না। প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর চার্জ কমানো দরকার। প্রনোদনা দিচ্ছে ঠিক আছে কিন্তু পাঠানোর চার্জ কেটে নিচ্ছে। প্রবাসীদের কাছ থেকে এ চার্জ কাটা বন্ধ করলে প্রবাসীরা আরো উদ্ভুদ্ধ হবে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠালেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভালো থাকে। তারা টাকা কম পাঠালে রিজার্ভে চাপ পড়ে। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানী বন্ধ করা দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্টেলিজ্যান্ট টিমের সদস্য বাড়ানো উচিৎ। যাতে করে প্রবাসীরা হয়রানী না হয় সেদিকে নজর দেয়া উচিৎ। প্রবাসীদের কাছে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আপনারা নিজেদের সামান্য লাভের কথা চিন্তা না করে দেশের কথা, পরিবারের কথা ভেবে বৈধ পথে টাকা পাঠান। এতে দেশ ভালো থাকবে, অর্থনীতি ভালো থাকবে, সর্বোপরি আপনার পরিবার ভালো থাকবে।

প্রবাসীদের পাঠানো টাকার এক্সচেঞ্জ ফি কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূখপাত্র সিরাজুল ইসলাম দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, এক্সচেঞ্জ ফি খুব সামন্য নেয়া হচ্ছে। এই ফি প্রবাসীদের উপর খুব একটা প্রভাব পড়ার কথা না। তারা হয়তো হুন্ডিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেশি পান। কিন্তু টাকাটা বৈধভাবে না আসার কারণে অবৈধ হয়ে যায়। কষ্ট করে বৈধ পথে আয় করা টাকা যদি দেশে এসে অবৈধ হয়ে যায় তাহলে তো পুরো কষ্টটাই বৃথা। তাছাড়া সরকার তো আড়াই শতাংশ প্রনোদনা দিচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। চাইলে একজন প্রবাসী ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারে। কিন্তু যারা হুন্ডিতে টাকা পাঠায় তারা তো এ সুযোগ পাচ্ছে না। তারপরও এ বিষয়টা নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করে দেখবো।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমি স্টাডি করে দেখেছিলাম, হুন্ডি আর অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রায় সমান টাকা আসে। তখন দেখেছি অফিসিয়াল চ্যানেলে এসেছে ৫১ শতাংশ আর হুন্ডিতে এসেছে ৪৯ শতাংশ। সেজন্য আমি মনে করি সেই ধারাবাহিকতা এখনো আছে। আমরা যদি অফিসিয়াল চ্যানেলে আনতে পারি তাহলে কেন আসবে না। অফিসিয়াল চ্যানেলে আনলে তো লস হচ্ছে না। প্রবাসীদের শুধু প্রণোদনা নয় স্বীকৃতিও দেওয়া হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মও কিন্তু এটি সুন্দরভাবে ভোগ করতে পারবে। এতে প্রশ্ন বা দায়বদ্ধ থাকবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় অফিসিয়াল চ্যানেলে বিদেশ থেকে টাকা আসুক সেটা প্রত্যাশা করি। কারণ এটার যে সুফল সেটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। হুন্ডির মাধ্যমে যদি টাকা নিয়ে আসেন সেটিকে অবৈধ বলব না, সেটি কালো টাকা। যারা সেই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে নিয়ে আসেন, তারা সবসময় বিবেকের কাছে দায়ী থাকবেন।


   আরও সংবাদ