ঢাকা, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২১ জ্বিলহজ্ব ১৪৪২

মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজের মডেল হবেন তো



মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজের মডেল হবেন তো

দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মসজিদ থাকার পরেও নতুন ৫৬০টি ব্যায়বহুল মডেল মসজিদ হয়েছে। যা করতে হয়েছে পদ্মাসেতুর পরে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বাজেট দিয়ে।

হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট, আইসিইউ সংকট, বেড সংকট, বেড়ি বাঁধে কার্যকর বাধ সংকটসহ দেশের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সংকট মোকাবেলায় যখন হিমশিম অবস্থা তখন ঠিক কোন গুরুত্ব বিবেচনায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজেট দিয়ে এতগুলো মসজিদ করতে হলো আগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই প্রশ্ন উঠছে।

গত দুদিন থেকে আমি অসংখ্য ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওয়ালে প্রশ্ন করতে দেখেছি মুসলমানদের জন্য হলে দেশের ১০/১৫% হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের জন্যও প্রতিটি জেলা উপজেলায় মডেল মন্দির, মডেল গীর্জা, মডেল প্যাগোডা করা হোক।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের ক্ষোভ ঝাড়তে দেখেছি তারা বলছেন যুব সমাজের বিনোদনের জন্য তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জন্য যেখানে বছরে মাত্র ৫৬০ কোটি টাকা বাজেট সেখানে দেশে সাড়ে ৩ লাখ মসজিদ থাকার পরেও কেন নতুন করে ৫৬০টি মসজিদ করতে হলো ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে!!

ইসলামী ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে থাকা এসব মডেল মসজিদ সমাজের আর দশটি প্রচলিত মসজিদের আদলে তৈরি হয়নি। এখানে নামাজের পাশাপাশি রাখা হয়েছে লাইব্রেরি, বই বিক্রয় কেন্দ্র, সেমিনার কক্ষ, পর্যটকদের থাকার জন্য আবাসন ব্যাবস্থা, নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা সিঁড়ি, আলাদা নামাজ কক্ষ এবং উপকুলীয় এলাকায় তৈরি হওয়া মসজিদের নীচতলা ফাঁকা রেখে ঝড় বন্যায় সাইক্লোন সেন্টার হিসেবেও ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলাসহ যেসকল সুযোগ সুবিধা রাখা হয়েছে তা অবশ্য ব্যতিক্রমি একটা উদ্যোগ বলতেই হবে।

৫৬০টি মসজিদের জনবলের জন্য সাড়ে ৭ হাজার মানুষের চাকরির চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। যেখানে সমাজের অন্যান মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন খাদেমের বেতন বোনাস নিয়ে নানান টালবাহানা/টানাপোড়েন দেখা যায় সেই সমস্যা এসব মডেল মসজিদে থাকবে না। এগুলোর জনসক্তিদের বেতন এবং নিয়োগ হবে সরকারি প্রজেক্টের তত্বাবধানে।

এ বিষয় নিয়েও অনেকের প্রশ্ন রয়েছে যদি প্রক্রিয়াটা এমনই থাকে তা হলে এসব মসজিদের নিয়ন্ত্রণ পূর্বে যারা ইসলামী ফাউন্ডেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল সরকার পরিবর্তন হলে আবানেরা তাদের হাতে চলে যাবে। তাতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে আজকের এই বিশাল বাজেট দিয়ে মডেল মসজিদ করা হলো তা লক্ষচূত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

মসজিদ সমাজের যুব সমাজের নৈতিক চরিত্র সংশোধন হওয়ার জন্য বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করার সামার্থ থাকলেও মডেল মসজিদগুলো ঠিক কতটা প্রভাব রাখতে পারবে তা নির্ভর করছে এর ইমাম খতিবের জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার উপরে।

যদি সেখানে ধর্মীয় জ্ঞান, সামাজিক জ্ঞান, আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার বিনির্মাণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার মত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকা আলেমদেরকে দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে নিয়োগ দেয়া হয় তা হলেও মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা আছে খুব।

ইদানিং দেখা যায় আধুনিক স্থাপত্যে নির্মিত মসজিদগুলোতে নামাজীর সংখ্যার থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি! গতকাল একযোগে ৫০টি মসজিদের উদ্বোধনের সময়ও সেই প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

মসজিদের ভিতরে মানুষের বিশাল ছবি সম্বলিত ব্যানার এবং জুতা পায়ে মিম্বারের সামনে সোফায় বসে (ছবি সংযুক্ত কমেন্টে) যেভাবে উদ্বোধন প্রক্রিয়া সারা হলো তা মসজিদ উদ্বোধনের সাথে বাংলাদেশী কালচারের সাথে যায় না বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্নমত এবং ক্ষোভ ঝেড়েছেন অনেকে।

মডেল মসজিদগুলো সমাজের আদর্শ হয়ে উঠুক, নীতিবান মানুষ তৈরির আতুড়ঘর হয়ে উঠুক। ধর্মান্ধতা এবং জঙ্গিবাদ নির্মুলের যে লক্ষ্য নিয়ে বিশাল এই প্রজেক্ট তৈরি হলো তা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করি।

গণমাধ্যমকর্মী 'মো. ইলিয়াস'র ফেসবুক থেকে


   আরও সংবাদ