নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল এলাকায় অপরিকল্পিত ও জনস্বার্থবিরোধী কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ ও বাতিলের দাবিতে মতবিনিময় সভা এবং স্মারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম।
সোমবার দুপুরে ফোরামের নেতাদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। পরবর্তীতে বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের নিকটও অনুরূপ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাগরিক অধিকার ফোরামের উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নাগরিকদের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন এবং নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামসহ জেলার সাধারণ অধিবাসীদের এই অবস্থানের সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করছেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ, জনজীবন, নৌ-যোগাযোগ ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নদীর নাব্যতা, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে যাচাই না করে এই কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে তা ভয়াবহ সংকট তৈরি করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হবে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চলাচলের কারণে বরফকলসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছাবে।
এ ছাড়া ফোরামের নেতারা অভিযোগ করেন, প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ না করেই এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয়ের কারণ হতে পারে। একই সাথে পানগাঁওসহ বিদ্যমান কন্টেইনার টার্মিনালগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার ও প্রসারণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
উক্ত কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম ও সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।