পূর্বের বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারির মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আবারও সেন্টমার্টিন সংক্রান্ত নির্দেশনায় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকেই দ্বীপটিতে পর্যটকরা ভ্রমণ এবং রাতযাপন করতে পারবেন। একই সঙ্গে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে গত ১২ অক্টোবরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের পর ২৫ অক্টোবর একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল, যেখানে ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও নভেম্বরে রাতযাপনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। এতে সিদ্ধান্তটির বাস্তবায়ন নিয়ে নানা সমালোচনা সৃষ্টি হলে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রজ্ঞাপনে সংশোধনী এনে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হলো।
সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনের যেসব অনুচ্ছেদে নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুমতি, দিনে দুই হাজার পর্যটকের সীমা এবং ফেব্রুয়ারিতে যাতায়াত বন্ধের বিধান ছিল—তা বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা যাতায়াত ও রাতযাপন করতে পারবেন এবং দৈনিক যাতায়াতের সীমা বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন রুটে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। বর্তমানে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে।
পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু কঠোর পরিবেশগত নিয়মও জারি রাখা হয়েছে। ভ্রমণকারীদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসংবলিত টিকিট কিনতে হবে। দ্বীপে রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা কেনাবেচা এবং মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো যাবে না।
সামুদ্রিক কাছিম, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছসহ দ্বীপের কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে পলিথিন বহন নিষিদ্ধ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজ দায়িত্বে পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।