ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩৩, ১৬ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর



ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বহুমুখী সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে সফর ও আলোচনার সার্বিক বিষয় তুলে ধরে তিনি এই কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই সফরকে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

শীর্ষ বৈঠকে জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ২ লাখ তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তির নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

জ্বালানি সহায়তা ও ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের (৫ হাজার কোটি ইয়েন) জরুরি আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুলেট ট্রেন ও মেগা ইনফ্রাস্ট্রাকচার

যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে দেশের ৬টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করতে দ্রুতগতির (হাই-স্পিড) রেল নেটওয়ার্ক এবং মহাকাশ বিজ্ঞানে জাপানের কারিগরি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া যৌথ সমৃদ্ধির অংশ হিসেবে ‘বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়’ (বিগ-বি) প্রকল্প এগিয়ে নিতে দুই দেশ একমত হয়েছে, যা আঞ্চলিক সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইপিএ চুক্তি ও রোহিঙ্গা সংকট

বাণিজ্য বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (EPA) দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে টোকিওর জোরালো সম্পৃক্ততা চেয়েছে ঢাকা।

ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা

সফর প্রসঙ্গে তারেক রহমান স্মরণ করেন যে, তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঢাকা-টোকিও সম্পর্কের যে মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা আরও সুদৃঢ় করেন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন রূপরেখা হিসেবে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।


   আরও সংবাদ