ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে কাকিনাড়ার কাছাকাছি পুদুচেরির ইয়ানাম এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টির ল্যান্ডফল বা স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া আকারে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বাংলাদেশের আকাশেও কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে এবং দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ইয়ানাম এলাকায় আছড়ে পড়ার পর উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে বাতাসের তীব্র বেগ ও ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়ায় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
২. বাংলাদেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার তীব্র শঙ্কা রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
৩. ৮ জেলার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে— যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
৪. দিন ও রাতের তাপমাত্রা হ্রাসের সম্ভাবনা
আবহাওয়া অফিসের সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগে আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
৫. মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচলের কঠোর নির্দেশ
উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার সব ধরনের নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচলের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গভীর সাগরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে জেলেদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।