ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে টানা দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর অবশেষে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) পুনরায় চালু হচ্ছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ‘কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। তবে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম আংশিক শুরু হলেও ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২২ হাজার বাংলাদেশি যাত্রী।
শনিবার কিং খালেদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিমানবন্দর খোলার কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার থেকে টার্মিনাল-১ কেবল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য এবং টার্মিনাল-২ সাউদিয়া অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর হুথি বিদ্রোহীদের জোড়া ও প্রাণঘাতী হামলার পর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সকল ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। গত দুই সপ্তাহে কেবল রিয়াদ বিমানবন্দরেই হামলায় অন্তত ১৮ জন এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় আরও ৫ জন নিহত হন। মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিমানবন্দর দুটি সীমিত পরিসরে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর বন্ধ থাকার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের এভিয়েশন ও প্রবাসী খাতের ওপর। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী মোট ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইন্সগুলো।
এর ফলে ২১ হাজার ৯৩৩ জন সৌদিগামী যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ প্রবাসী শ্রমিক। বাতিল হওয়া ১৪১টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৬টি সরাসরি এবং ৭৫টি বিভিন্ন কানেক্টিং বা ট্রানজিট ফ্লাইট।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট। ইন্ডিগো ২৯টি, এমিরেটস ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ৯টি, ফ্লাইদুবাই ৮টি, সালামএয়ার ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়া ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট।
সৌদি বিমানবন্দরগুলো সীমিত পরিসরে চালু হলেও ঢাকার বকেয়া এত বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে নতুন করে টিকিট বা ফ্লাইট রি-শিডিউল করে কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো হবে, তা নিয়ে এখন চরম শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।