ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩২, ৯ রমজান ১৪৪৭

বিদায়ের আগে যা বলে গেলেন ড. আহসান এইচ মনসুর



বিদায়ের আগে যা বলে গেলেন ড. আহসান এইচ মনসুর

কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ সভার পর আহসান এইচ মনসুর এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কিছু কর্মকর্তা স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় পরিচালিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের মানমর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন। কর্মকর্তাদের অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে। যদি কেউ প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করতে চান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রক্ষায় কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।

গভর্নর তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে যখন খাতটি কাঠামোগত সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপকে হতে হবে আইনি ও প্রশাসনিক বিধিমালা অনুযায়ী সুসংহত। মূলত আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং বিপর্যস্ত ব্যাংকগুলোকে পুনরুদ্ধারের কৌশলগত প্রচেষ্টাই বর্তমান প্রশাসনের মূল চালিকা শক্তি, যা আর্থিক মধ্যস্থতার পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে আরও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

গভর্নর বলেন, সংকটগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং সামগ্রিক বাজার স্থিতিশীল রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি কৌশলগত ও আবশ্যিক দায়িত্ব। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে টাকা দেওয়া হয়েছে। এই হস্তক্ষেপ না করা হলে আমানতকারীরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতেন না, যা জাতীয় অর্থনীতিতে একটি ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করত। এই আর্থিক সহায়তা কোনো একক ব্যাংকের জন্য নয়, বরং গোটা খাতের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এরপরও এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দাঁড়াতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার অধিকার নেই এসব বিষয়ে কথা বলার। এ জন্য তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

গভর্নরের পদত্যাগ চান কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আহসান মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে। আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে। দেশের এই সংকটকালীন সময়ে জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

গভর্নর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একটি কুচক্রী মহল সাধারণ কর্মকর্তাদের ভুল পথে পরিচালিত করে ব্যাংকগুলোকে আবার সেই পুরোনো ‘লুটেরা’ মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যাংকগুলোকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে এবং কোনোভাবেই আগের ঋণখেলাপি মালিকদের কাছে এগুলো ফেরত যেতে দেওয়া হবে না।

গভর্নর বর্তমানে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকগুলোকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ঘোষণা করেন, জনগণের করের টাকা এবং আমানত শুধু জনস্বার্থেই ব্যবহৃত হবে। প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে কোনো প্রকার ‘দুরভিসন্ধিমূলক কার্যক্রম’ বা অযৌক্তিক কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। একটি দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার পূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।


   আরও সংবাদ