আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর এবং সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবসহ বিভিন্ন জরুরি বিষয় উঠে আসে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, টিসিবি এবং এফবিসিসিআইয়ের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রমজান শুরুর আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের অন্যতম ইফতারপণ্য খেজুরের আমদানি খরচ কমাতে শুল্ক হ্রাসের জোরালো দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও অতিরিক্ত শুল্কায়নমূল্যের কারণে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এদিকে বৈঠকে ছোট ডাল মিলগুলোর ওপর বড় ব্যবসায়ীদের খবরদারি ও প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতি। সংগঠনের সভাপতি হাজী নেসার উদ্দিন জানান, দেশের ছোলার সম্পূর্ণ চাহিদা এবং মসুর ডালের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। কিন্তু মুষ্টিমেয় বড় ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ ও ছোট মিলগুলো টিকতে পারছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রমজানে পণ্যের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে ইতোমধ্যে আমদানির গতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, গত ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন ভোজ্যতেল, ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন চিনি, ৮২ হাজার টন ছোলা, ১ লাখ ২২ হাজার টন মসুর ডাল এবং ১১ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি।
অন্যদিকে, পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা স্বস্তির খবর দিয়ে জানান যে বর্তমানে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম কমে ১০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। রমজানে এই খাতে কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজান মাসে তেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই যেকোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট রোধে আগে থেকেই কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় শুল্ক কাঠামো সমন্বয়ের কাজ চলছে।