ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩২, ১০ জ্বমাদিউল সানি ১৪৪৭

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই প্রবাসীর বসতঘর



ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই প্রবাসীর বসতঘর

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে এক প্রবাসীর ঘরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে মনির হোসেন মালের বাড়ির একটি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন মনির হোসেন মাল। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে আগুন দেখা দিলে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও একটি কক্ষের আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

মনিরের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, “২০২২ সালেও আমাদের দুইটি ঘরে আগুন দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। আমার ভাই বিদেশে থেকে কষ্টার্জিত টাকা ও ঋণ করে এই ঘরটি পুনর্নির্মাণ করে। এবারও একইভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমাদের সঙ্গে আবু তাহের মাল ও তার পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তারা হুমকি দিয়েছিল আমাদের নিঃস্ব করে দেবে। আমার বিশ্বাস, তারাই এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে জড়িত।”

অন্যদিকে, মনিরের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আমার স্বামী বিদেশে থাকেন। তাঁর কষ্টার্জিত টাকা ও ধার-দেনা করে এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়। এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমরা সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েছি।

তবে স্থানীয় এক নারী প্রতিবেশী বলেন, “মনিরের মায়ের চিৎকার শুনে আমরা ছুটে যাই। দেখি ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে আগুন জ্বলছে। তখন মনিরের মা পানি ঢালছিলেন। আমরা সহায়তা করি, কিন্তু ধোঁয়ার কারণে কেউ ভিতরে যেতে পারছিল না। পরে খোকন ছৈয়াল কাঠ দিয়ে থাই গ্লাস ভেঙে দেয়। আমার মনে হয় না কেউ ইচ্ছে করে আগুন দিয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা খোকন ছৈয়াল বলেন, “আমি বাড়ির পাশে কাজ করছিলাম। আগুনের খবর শুনে ছুটে যাই। দেখি রুমের ভিতর ধোঁয়া বের হচ্ছে। ধোঁয়া বের করতে আমি খাটের কাঠ দিয়ে থাই গ্লাস ভেঙে দিই। আমার মনে হয় না এটি কেউ লাগিয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু তাহের বলেন, “আমি তখন আমার নাতিকে মাদরাসা থেকে আনতে গিয়েছিলাম। বাড়িতে ফিরে শুনি মনিরের ঘরে আগুন লেগেছে। এরপর তারা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, নাকি আমি আগুন দিয়েছি! আমরা কিছুই জানি না। উল্টো তারা আমাদের হুমকি দিচ্ছে।”

ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী এটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ নয়, বরং বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন হতে বেশি সময় লাগবে না।


   আরও সংবাদ