ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩২, ১০ জ্বমাদিউল সানি ১৪৪৭

ডিমে ফিরেছে স্বস্তি, ডজনে কমলো ৩৫ টাকা



ডিমে ফিরেছে স্বস্তি, ডজনে কমলো ৩৫ টাকা

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর অস্বাভাবিক ভাবে দাম বেড়ে যায় ডিমের। দাম বৃদ্ধিতে অস্থির হয়ে উঠেছিলো বাজার। ডিমের হালি বিক্রি হয় ৫০-৭০ টাকা পর্যন্ত। ডজন গিয়ে দাঁড়ায় ১৫০ টাকায়। এতে ক্রেতাদের মাঝে দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ। দাম বৃদ্ধিতে কারসাজির অভিযোগ ওঠে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। অভিযানে নামে ভোক্তা সংসরক্ষণ অধিদপ্তর। জরিমানা করা হয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ডিম আমদানী করার কথা বলেন মন্ত্রী। এরপর থেকে কমতে শুরু করে ডিমের দাম। এতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বাজারে।

বিপিআইসিসির তথ্য বলছে, চলতি আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহ পর্যন্ত খামার পর্যায়ে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিমের পিস রাখা হয়েছে ৯ টাকা ৭৩ পয়সা। আর খামারিরা সাদা রঙের ডিম পাইকারিতে বিক্রি করেছে ৯ টাকা ৪০ পয়সায়। খামারিরা বাড়তি মূল্য না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে। এতে ডিমের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ডিমের দাম কমেছে আরও ৫ টাকা। এর মাধ্যমে দুই সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ৩৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাদামি রঙের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। ফার্মের মুরগির সাদা রঙের ডিমের দাম ডজনে ৫ থেকে ১০ টাকা কম। দেশি হাঁস ও মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ডিম বিক্রেতা সুমন বলেন,বাজারে হঠাৎ করে ডিমের সরবরাহ কমে গিয়েছিলো। এতে করে ডিমের দামও হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। একসপ্তাহ ধরে দাম কমে আগের অবস্থায় চলে এসেছে। একলাফে হালিতে ডিমের দাম কমেছে ১৫ টাকার মতো। দাম কমায় বেচাকেনাও ভালো। দাম বাড়ার পর এখন ডিমের দাম কমার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরিফ বলেন, ডিমের দাম যে সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হয়েছিল এটা সবাই বুঝতে পারছে। অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে অনেকে ডিম কেনা বন্ধ করে দেন। ফলে ডিমের বিক্রি ব্যাপক কমে যায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে দাম কিছুটা কমেছে। আমাদের ধারণা সামনে ডিমের দাম আরও কমবে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) বলছে, দেশে প্রতিদিন চার কোটির বেশি ডিম উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত এসব ডিমের বড় অংশ আসে গ্রামের খামার থেকে। পচনশীল পণ্য হওয়ায় এসব ডিম দ্রুত পরিবহন করে দেশের বড় বাজারগুলোতে নিয়ে আসা হয়। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। কিন্তু তার প্রভাব ডিমের ওপর খুব বেশি পড়ার কথা না থাকলেও ডিমের দাম হালিতে ১৫ টাকার বেশি বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। দেশে উৎপাদিত ডিম দিয়েই চাহিদা মেটে। এই ডিম খাওয়ার পাশাপাশি একটা বড় অংশ দিয়ে আবার মুরগির বাচ্চাও ফোটানো হয়। ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্যানুসারে, চলতি আগস্ট মাসে দেশে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার চাহিদা ছিল সপ্তাহে গড়ে ১ কোটি ৩২ লাখ।


   আরও সংবাদ