গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করা হলেও দেশে এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পতিত ও নব্য—উভয় স্বৈরাচারকেই পরাজিত করা হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর এনসিপি আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এনসিপির নেতারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে গেছেন। মানুষের বাসায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে সাধারণ জীবন আজ চরম নাজেহাল। জনগণের সুরক্ষা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। নাহিদ বলেন, "সংবিধান সংশোধনের যে দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ নিয়েছেন, আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। পদত্যাগ না করলে আমাদের মিছিল বড় হবে এবং সরাসরি মিছিল নিয়ে গিয়ে জনাব তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করা হবে।"
তিনি সংবিধান সংস্কার কমিটি বাতিল করে জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' গঠনের দাবি জানান। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পর থেকেই বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করছে এবং জনগণের জন্য নয়, বরং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের নীতিতে কাজ করছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও সীমান্তে নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যার মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ চক্রান্ত চালাচ্ছে। বর্তমান সরকার এই সীমান্ত চক্রান্ত ও আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে গঙ্গা নদীর ন্যায্য হিস্যা ও অন্যায্য করিডর সুবিধার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
সমাবেশ থেকে ঢাকা মহানগরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি ঘোষণা করেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরে যথাক্রমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তরুণ প্রজন্ম ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তিবর্গ তাদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।