গণ ভোট আর ত্রয়োদশ নির্বাচন, আলোচনায় এখন ‘মুজিব ভাই’। সিনেমাটির নির্মাণ খরচ নিয়েই চলছে আলোচনা সমালোচনা। কেউ বলছেন এই একটি সিনেমাতেই খরচ করা হয়েছে ৪ হাজার ২শ কোটি টাকা। আবার কেউ বলছেন, শুধুমাত্র ৪২ কোটি টাকা ব্যেয় হয়েছে, যা গণমাধ্যমে ভুলক্রমে ৪ হাজার ২০০ কোটি হয়ে গেছে।
এই ‘লুটপাট’র তথ্যসূত্র হিসেবে গণমাধ্যমগুলো ব্যবহার করেছে সরকার প্রকাশিত একটি ‘শ্বেতপত্র’কে। বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতে গত ১৫ বছরে সংঘটিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাঠামোগত দুর্বলতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে ৫ জানুয়ারি বিস্তৃত এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে ৩ হাজার ২৭২ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নাগরিককেন্দ্রিক টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে এই দলিল নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
এমন বিতর্কের মধ্যেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেক জানানো হয় ‘মুজিব ভাই’ সিনেমার যে ব্যয় উল্লেখ করা হয়েছে গণমাধ্যমে তা সঠিক নয়। একই সাথে জানানো হয়, সিনেমাটির জন্য তৎকালীণ ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যয় করে ৫ কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। যদিও কোনো কোনো গণমাধ্যম তথ্য ছাড়াই ৪২ কোটি খরচ বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে তাহলে ৪ হাজার ২০ কোটি টাকার হিসেব কোথা থেকে আসলো? সেই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবস ৭ মার্চের ভাষণ, খোকা, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, মুজিব আমার পিতা, উন্নয়নের ৫০ বছর, শেখ রাসেল দিবস ২০২৩ এবং সবচেয়ে আলোচিত মুজিব ভাইয়ের একত্রিত ব্যয় ৪২১ কোটি ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। আর এই টাকাকেই ৪ হাজার ২১১ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুল হওয়ার পেছনে মন্ত্রণালয় যে হিসেব দিয়েছে সেখানে উল্লেখ করেছে ৪ হাজার ২১১ দশমিক ২২ লাখ। শুরুতে ৪২১১ থাকায় অনেকেই এই অংককে কোটি হিসেব ধরে নিয়েছেন। আর আতেই ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে সবখানে।