ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩, ১০ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে নিখোঁজ: সৈকত থেকে আরও এক মরদেহ উদ্ধার



বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে নিখোঁজ: সৈকত থেকে আরও এক মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের রামুর পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। এ ঘটনায় এখনো নিবিড় নামের ঢাকার এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পেচারদ্বীপ সৈকতে ভাসমান অবস্থায় চতুর্থ মরদেহটি ভাসতে দেখে উদ্ধার করে ফায়ারি সার্ভিসের কর্মীরা। প্রাথামিকভাবে স্বজনরা এটি চট্টগ্রামের বাংলাবাজার-বায়োজিদ এলাকার বাসিন্দা হারুনের মরদেহ বলে নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার চেষ্টার শেকল ভেঙে প্রাণহানি

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে পেচারদ্বীপের নির্জন সৈকতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ১২ জন পর্যটক একসঙ্গে সমুদ্রে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে এক পর্যটক স্রোতের তোড়ে ভেসে যেতে থাকলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেন। তাকে রক্ষা করতে অন্য বন্ধুরা দ্রুত একে অপরের হাত ধরে মানব-শেকল (Human Chain) তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা চালান।

তবে এ সময় হঠাৎ একটি বিশালাকার ঢেউ আছড়ে পড়লে হাত ছুটে গিয়ে সবাই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যে গভীর পানিতে তলিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় জেলে, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তিনজনের মরদেহ এবং কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

নিহত ও নিখোঁজদের পরিচয়

দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মধ্যে ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা রোহান ও জিশান এবং চট্টগ্রামের বাংলাবাজার এলাকার আকাশ ও হারুন রয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটক নিবিড় ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা।

সুরক্ষা ব্যবস্থা ও রিসোর্টের অবহেলার অভিযোগ

ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রে নামা পর্যটকদের কেউই সাঁতার জানতেন না। কোনো প্রকার লাইফজ্যাকেট বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই উত্তাল সাগরে নামাই এই বিপত্তির কারণ। তবে ভুক্তভোগী পর্যটকদের দাবি—তারা যে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন, সেই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ থেকে সাগরে নামার বিষয়ে কোনো রকম ঝুঁকি বা নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়নি।

রামু উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে এবং কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রেখে পর্যটকদের নামতে দেওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী রিসোর্ট মালিক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।


   আরও সংবাদ