ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩, ১০ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

নেটদুনিয়ায় নতুন ঝড় ‘আনসিন বাংলাদেশ’



নেটদুনিয়ায় নতুন ঝড় ‘আনসিন বাংলাদেশ’

কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই নিজের ঘুরে আসা জেলাগুলো রঙিন হয়ে উঠছে ডিজিটাল স্ক্রিনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুহূর্তের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে ‘আনসিন বাংলাদেশ’ (Unseen Bangladesh)। একটি সহজ ভার্চুয়াল ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম কীভাবে অতি দ্রুত ভ্রমণপিপাসুদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা প্রকাশের ডিজিটাল আয়নায় পরিণত হয়েছে, তা সত্যিই নজরকাড়া।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মানচিত্রে কার ঝুলিতে কতটি জেলা জমল—এই সহজ কনসেপ্টটিই মূলত নেটিজেনদের আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, ‘আসলে নিজের দেশকে কতটুকু দেখা হলো?’

ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার কিংবা সিলেটের মতো পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে যাওয়া অনেকের জন্যই বেশ স্বাভাবিক। কিন্তু যখনই ভার্চুয়াল ম্যাপে দেখা যায় অধিকাংশ জেলা এখনো সাদাকালো, তখনই শুরু হয় আত্মোপলব্ধি। কারও মানচিত্রের উত্তরবঙ্গ রঙিন হলেও দক্ষিণ-পশ্চিম ফাঁকা, আবার কারও পার্বত্য চট্টগ্রাম লাল-সবুজ হলেও মধ্যাঞ্চল ছোঁয়াই হয়নি। এটি এখন কেবল ঘোরার হিসাব দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতার এক বর্ণিল ভিজ্যুয়াল ক্যানভাস। তরুণ থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই নিজ নিজ মানচিত্র এখন শেয়ার করছেন ফেসবুকে।

সামাজিক মাধ্যমের যুগে মানুষ এখন আর শুধু 'কোথায় ঘুরে এলাম' তা বলতে চায় না, তারা দৃশ্যমান আকারে পুরো ভ্রমণের মাইলফলক দেখাতে ভালোবাসে। এক সময় যেসব স্মৃতি অ্যালবামের পাতা কিংবা ফেসবুক ফটো অ্যালবামে বন্দি ছিল, এখন তা স্থান পেয়েছে এই ডিজিটাল মানচিত্রে। বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা করা কিংবা 'তুমি কয় জেলা ঘুরেছ?'—এমন প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু মজার কথোপকথন এই ট্রেন্ডকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে কেবল ম্যাপে রং করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এই উদ্যোগ। চবি অর্থনীতির সাবেক শিক্ষার্থী ও তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী মো. সাব্বির হোসেন রবিনের হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মে দেশের কম পরিচিত গন্তব্য, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও লোকসংস্কৃতির তথ্যও যুক্ত রয়েছে। এটি দেশের মূলধারার পর্যটনের বাইরে থাকা প্রাচীন জমিদারবাড়ি, নদীমাতৃক রূপ কিংবা গ্রামবাংলার বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে তুলে ধরছে।

ডিজিটাল এই ট্রেন্ড এখন রূপ নিচ্ছে বাস্তব ভ্রমণের অনুপ্রেরণায়। বন্ধুদের ভ্রমণ তালিকার সঙ্গে নিজের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেকেই এখন ছক কষছেন আগামী ছুটির দিনগুলোতে নতুন কোনো অচেনা জেলায় ঘুরে আসার। ফেসবুকে বিদেশের ছবির চেয়ে নিজ দেশের অজপাড়াগাঁ আবিষ্কারের এই রূপকথা যেন নতুন প্রজন্মকে নতুন করে নিজের দেশের প্রতি অনুরাগী করে তুলছে।


   আরও সংবাদ