ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩২, ২৩ রজব ১৪৪৭

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না



সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না

কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না— এমন বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

সম্প্রতি এ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহু বিবাহ সংক্রান্ত ৬ ধারায় বলা হয়েছে—

১) কোনো ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকিতে সে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে পারিবে না বা ঐরূপ অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ ১৯৭৪ সনের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনের অধীনে নিবন্ধিত হইবে না।

২) ১ নম্বর উপধারা অনুযায়ী অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফিসহ চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট দপ্তরে দাখিল করিতে হইবে এবং উহাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি লওয়া হইয়াছে কি না, উহার উল্লেখ থাকিবে।

৩) ২ নম্বর উপধারা অনুযায়ী দরখাস্ত গ্রহণ করিবার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করিয়া প্রতিনিধি মনোনীত করিতে বলিবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত বলিয়া মনে করিলে এবং যুক্তিসংগত বলিয়া মনে হইতে পারে এমন সব শর্ত থাকিলে তৎসাপেক্ষে প্রার্থির আবেদন মঞ্জুর করিতে পারেন।

৪) দরখাস্তের বিষয় নিষ্পত্তি করিবার নিমিত্ত সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণটি লিপিবদ্ধ করিবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফিস প্রদানক্রমে নির্দিষ্ট দপ্তরে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার নিমিত্ত দরখাস্ত দাখিল করিতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোনো আদালতে এই সম্বন্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

৫) কোনো ব্যক্তি যদি সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া অন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবে সে—

ক) বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের তলবি ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করিতে হইবে। উক্ত টাকা উক্তরূপে পরিশোধ না করা হইলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হইবে; এবং

খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হইলে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় প্রকার দণ্ডনীয় হইবে।

হাইকোর্ট ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি রুল জারি করেন। রুলে পারিবারিক জীবন রক্ষার বৃহৎ স্বার্থে বহুবিবাহ আইনের বিষয়ে নীতিমালা কেন করা হবে না, তা জানতে চান। একই সঙ্গে, স্ত্রীদের মধ্যে সমঅধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া আইন অনুসারে বহু বিবাহের অনুমতির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না তাও জানতে চান হাইকোর্ট। 

ওই রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা বলেছেন।

আইনজীবী ইশরাত হাসান জানিয়েছিলেন, এখানে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। যে ইসলামী আইন দেখিয়ে বলা হচ্ছে চারজন স্ত্রী রাখা যাবে, সেখানে ইসলামে বলা হয়েছে— সবার প্রতি সমানভাবে সুবিচার করতে হবে। এখানে শুধুমাত্র ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ করা যাবে না। শুধু বিয়ে করতে পারবে— ওই অংশটুকু গ্রহণ করলে হবে না; সবার প্রতি কীভাবে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে, তার বিধান (প্রভিশন) থাকতে হবে।

আবেদনকারী টাকা দিচ্ছেন কি না, আদৌ তার বিয়ে করার আর্থিক সংগতি আছে কি না—এগুলো দেখার সুযোগ চেয়ারম্যানের নেই। মালয়েশিয়ায় এই প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নয়। আদালত সমন দেন, সাক্ষীদের ডাকেন এবং বিয়ের যে কারণটি উল্লেখ করা হয়, তা সত্য কি না তা যাচাই করেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বিস্তারিত যাচাই করার সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো চেয়ারম্যান যদি নিজে বিয়ে করতে চান, তবে তাকে নিজেকেই নিজের অনুমতি দিতে হয়।


   আরও সংবাদ