ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩৩, ২৫ রবিউল সানি ১৪৪৮

পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিলের সীমা ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি



পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিলের সীমা ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি

দেশের পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল সুবিধার আকার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। ব্যাংকগুলোর জন্য এই বিশেষ তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা এবং এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০৩১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক পত্র দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে ওই পত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসউদ খানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ডিবিএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও এর উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা বিশেষ তহবিল সুবিধাটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারের তারল্য রক্ষায় এর আগে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক এই সুবিধার আওতায় সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। তবে এই বিশেষ তহবিল সুবিধার বর্তমান মেয়াদ আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ডিবিএ জানিয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারে বিদ্যমান তারল্য সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাজনিত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই সুবিধা প্রত্যাহার না করে বরং তা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। এই বাস্তবতায় ডিবিএ দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে—প্রথমত, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিশেষ তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা এবং দ্বিতীয়ত, এই সুবিধার মেয়াদ আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০৩১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আরও পাঁচ বছর বাড়ানো।

ডিবিএ মনে করে, বিশেষ তহবিলের এই সীমা ও মেয়াদ বাড়ানো হলে পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, বাজারের তারল্য ও গভীরতা উন্নত হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। পাশাপাশি এটি দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক এই দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ডিবিএ। এছাড়া পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত যেকোনো নীতি ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।


   আরও সংবাদ