ঢাকা, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩৩, ২০ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সাজেক অবরোধ নিয়ে মুখোমুখি দুটি পাহাড়ি সংগঠন



সাজেক অবরোধ নিয়ে মুখোমুখি দুটি পাহাড়ি সংগঠন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে চলমান অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে নতুন এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে যাতায়াতের সুবিধার্থে রোববার (১ নভেম্বর) ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে ইউপিডিএফ-সমর্থিত ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’। তবে সশস্ত্র তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়ে একই দিনে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাল্টা ১২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি’।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পাল্টা অবরোধের কথা জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, সাজেকে সহিংসতা, সশস্ত্র তৎপরতা, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে হামলার প্রতিবাদের পাশাপাশি নিরাপত্তার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এছাড়া গত ৩১ অক্টোবর কলাবুনিয়া এলাকায় নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক ভিডিও বার্তায় জানান, রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না। তবে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিহার কর্তৃপক্ষকে অবরোধকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতি নিতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদকর্মীদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। উদ্ভূত নিরাপত্তাহীনতার কারণে গত ২২ অক্টোবর থেকেই সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।


   আরও সংবাদ