ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩৩, ২৫ রবিউল সানি ১৪৪৮

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন



বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার জানান, হাসপাতালে আনার পর টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা) দেওয়া হলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি। এদিকে তার মৃত্যুর খবরে ভারতীয় সংগীতাঙ্গন ও চলচ্চিত্রজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার ছেলে মালহার পাটেকার পুনে থেকে গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিয়মানুযায়ী এই মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকেল-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তীব্র অভিনয়শৈলী, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য ভারতীয় সিনেমায় তিনি এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা ‘নাটসম্রাট’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ক্রান্তিবীর’-এর মতো একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানার। এরপর ধীরে ধীরে নিজের মেধা ও স্বকীয় অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ (২০০৬)-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া কমেডি ঘরানার ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছেও দারুণ জনপ্রিয়তা পান। তার প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।


   আরও সংবাদ