ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩৩, ১৭ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ইসরাইলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: ৯০ শতাংশ ভোট গণনায়ও সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা



ইসরাইলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: ৯০ শতাংশ ভোট গণনায়ও সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি কোনো রাজনৈতিক জোট। ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট ৫৩টি আসন এবং গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, সরকার গঠনে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন হলেও কোনো পক্ষই এখনো তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

এই নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে আরবদের দুটি জোট জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম; তারা সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা ‘কিংমেকার’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সেনাসদস্য ও কূটনীতিকদের প্রায় পাঁচ লাখ বিশেষ ব্যালট গণনা এখনো বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফলাফলে এ বিন্যাসে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর এটিই দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচন।

সরকার গঠন নিশ্চিত না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকেরা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, যাতে হয়তো নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের দল যৌথভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে। তবে আইজেনকট তার সামাজিক মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করে ভোটারদের বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে, নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতির মুখে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি তাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। তবে জয়েন্ট লিস্ট সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, আরব ভোটারদের এই সক্রিয় অংশ গ্রহণই নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চূড়ান্ত ফল পাওয়ার আগে স্পষ্ট কিছু বলা না গেলেও, ইসরাইলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি চূড়ান্ত ফলাফল ও জোট-সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে।


   আরও সংবাদ