ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। আর এক বছরে (মার্চ ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৪) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলো মোট ঋণ বিতরণ করেছে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৯ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এটি গত বছরের (মার্চ-২০২৩) একই সময়ের চেয়ে ৫০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা বেশি। গত বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। প্রান্তিকটিতে দেশের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে খেলাপি ঋণ। কিন্তু গত মার্চে ওই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে দেশের আর্থিক খাতের এই খারাপ সূচক। আর মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনতে হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে এবং সরকারি ব্যাংকে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বেসরকারি খাতের খেলাপি ঋণ ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর সরকারি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ২৭ দশমিক ৪৯ শতাংশই খেলাপি।