ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩২, ১০ জ্বমাদিউল সানি ১৪৪৭

চিয়া সিডস খেলেই বিপদ



চিয়া সিডস খেলেই বিপদ

বর্তমান সময়ে পুষ্টিগুণের কারণে অনেকেই চিয়া সিডস খান। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর চিয়া সিডস আজকাল সুপারফুড হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। অনেকে সকালে পানি বা দুধে ভিজিয়ে খান, কেউ স্মুদি বা সালাদে মিশিয়ে নেন কারণ এটি ওজন কমাতে, হজমশক্তি বাড়াতে, এমনকি ত্বক ও চুলের যত্নেও সাহায্য করে। কিন্তু ত্বক ডারমাটলজিস্টের মতে, সবার জন্য চিয়া সিডস নয়।

যাদের চিয়া সিডস খাওয়া একেবারেই উচিত নয়: হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায়, রমাটলজিস্ট ডা. জুষ্যা ভাটিয়া সারিন চিয়া সিডস নিয়ে সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি পাঁচটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মানুষকে চিয়া সিডস সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো হলো: 

গ্যাস বা হজমের সমস্যা থাকলে

ডা. সারিন বলেন, চিয়া সিডস পেটে গিয়ে ফুলে ওঠে। ফলে যাদের আগে থেকেই গ্যাস, পেট ফাঁপা বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের পেটে ব্যথা, ক্র্যাম্প বা অস্বস্তি হতে পারে। তিনি পরামর্শ দেন, শুরুতে আধা চামচ দিয়ে শুরু করুন এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখুন।

রক্তচাপ কম থাকলে

চিয়া সিডসে প্রাকৃতিকভাবে আছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড ও পটাশিয়াম, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই যাদের রক্তচাপ সাধারণত কম থাকে, তারা চিয়া সিডস খেলে মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগার ঝুঁকি নিতে পারেন।

যারা অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন ইত্যাদি রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের জন্যও চিয়া সিডস ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এর মধ্যে থাকা অতিরিক্ত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তক্ষরণের প্রবণতা বাড়াতে পারে।

তিল, সরিষা বা ফ্ল্যাক্সসিডে অ্যালার্জি থাকলে

ডা. সারিন জানান, যাদের তিল, সরিষা বা ফ্ল্যাক্সসিডে অ্যালার্জি আছে, তাদের মধ্যে চিয়া সিডসেও ক্রস-রিঅ্যাকশন হতে পারে। অ্যালার্জির লক্ষণ যেমন চুলকানি, ত্বকে লাল দাগ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে

চিয়া সিডসে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ফসফরাস থাকে, যা কিডনির সমস্যাযুক্ত রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

চিয়া সিডস নিঃসন্দেহে একটি উপকারী খাবার তবে সবার জন্য নয়। ডা. সারিনের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ ব্যক্তিরা দিনে ১-২ টেবিল চামচ ভিজিয়ে খেতে পারেন, তবে পর্যাপ্ত পানি পান করতেই হবে। নাহলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে। মনে রাখবেন, কোনো নতুন খাবার বা সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 


   আরও সংবাদ