যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষে বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। দেশজুড়ে একক রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণের প্রতি জনগণের এই স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানে নিউইয়র্ক, টেক্সাস ও কানসাসের মতো অপ্রত্যাশিত এলাকাতেও ট্রাম্পের দল পরাস্ত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় ২১৮টির চেয়ে অনেক বেশি আসন এবং ১০০ সদস্যের সিনেটে অন্তত ৫৪টি আসন পেতে যাচ্ছে তারা।
নির্বাচনের এই ফলাফল ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এনেছে। আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাওয়া হাকিম জেফরিস এই ফলকে ‘মাগা চরমপন্থার বিরুদ্ধে জনগণের মহান বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার মন্তব্য করেন, ভোটারদের এই রায় মূলত ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যানেরই বহিঃপ্রকাশ। ডেমোক্র্যাটরা তাদের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পেছনে গত আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতিকে মূল কারণ বলে মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পরাজয় মেনে নিয়ে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বিল আটকে দিতে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি যেটাই হোক, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদ থেকে সরানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।