স্তন ক্যানসারকে সাধারণত নারীদের ব্যাধি মনে করা হলেও এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন পুরুষরাও। সামাজিক সংকোচ ও সচেতনতার অভাবে প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করায় অনেক পুরুষই শেষ পর্যায়ে গিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
সম্প্রতি বগুড়ার দুটি বড় চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে গত এক বছরে অন্তত সাতজন পুরুষের স্তন ক্যানসার শনাক্তের তথ্য সামনে আসার পর চিকিৎসকেরা এই ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে সতর্ক করছেন।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল ও টিএমএসএস হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে নারী রোগীদের পাশাপাশি পুরুষরাও নিয়মিত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছর শজিমেক হাসপাতালে আসা ১৫১ জন স্তন ক্যানসার রোগীর মধ্যে একজন পুরুষ এবং টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২৩০ জন রোগীর মধ্যে পাঁচজনই পুরুষ।
উদাহরণস্বরূপ, ৬৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম শুরুতে ডান স্তনের নিচের গুটিকে সাধারণ ভেবে অবহেলা করেছিলেন। পরবর্তীতে ক্যানসার নিশ্চিত হওয়ার পর অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে তাঁকে। আরেক রোগী সঞ্জীব কর্মকারের (৬১) ক্ষেত্রটিতে লক্ষণ প্রকাশেও দেরিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ায় রোগটি ইতোমধ্যে ৩য় ধাপে পৌঁছে গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, বংশগত কারণ, বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ জিনের অস্বাভাবিকতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত স্থূলতা, যকৃতের দীর্ঘমেয়াদি রোগ কিংবা বুকে রেডিয়েশনের ইতিহাস থাকলে পুরুষদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের সতর্ক থাকতে হবে।
চিকিৎসকেরা জানান, স্তনে বা বগলে শক্ত গুটি, চামড়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বোঁটা ভেতরে ঢুকে রক্ত বা তরল বের হওয়া মাত্রই কোনো লজ্জা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি। প্রাথমিক ধাপে রোগ ধরা পড়লে নিরাময়ের সুযোগ অনেক বেশি থাকে।