ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩২, ১০ জ্বমাদিউল সানি ১৪৪৭

শান্ত পাহাড়ে অশান্তির দাবানল

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের হুমকি!

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined variable: repo

Filename: fontend/detail.php

Line Number: 83

Backtrace:

File: /home/deshkhob/public_html/application/views/fontend/detail.php
Line: 83
Function: _error_handler

File: /home/deshkhob/public_html/application/controllers/Front_side_news.php
Line: 153
Function: view

File: /home/deshkhob/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property 'name' of non-object

Filename: fontend/detail.php

Line Number: 83

Backtrace:

File: /home/deshkhob/public_html/application/views/fontend/detail.php
Line: 83
Function: _error_handler

File: /home/deshkhob/public_html/application/controllers/Front_side_news.php
Line: 153
Function: view

File: /home/deshkhob/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined variable: repo

Filename: fontend/detail.php

Line Number: 83

Backtrace:

File: /home/deshkhob/public_html/application/views/fontend/detail.php
Line: 83
Function: _error_handler

File: /home/deshkhob/public_html/application/controllers/Front_side_news.php
Line: 153
Function: view

File: /home/deshkhob/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property 'designation' of non-object

Filename: fontend/detail.php

Line Number: 83

Backtrace:

File: /home/deshkhob/public_html/application/views/fontend/detail.php
Line: 83
Function: _error_handler

File: /home/deshkhob/public_html/application/controllers/Front_side_news.php
Line: 153
Function: view

File: /home/deshkhob/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

প্রকাশ : ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ২২:১৬ অপরাহ্ন

শান্ত পাহাড়ে অশান্তির দাবানল

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হলো পার্বত্য অঞ্চল। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আওতাধীন তিন পার্বত্য জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামটি, বান্দরবান) নিয়ে এ দেশের সমতলের সাধারণ মানুষের মনে দারুণ কৌতুহল রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা- বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির ২৬টি উপজেলার দুর্গম বা গহিন উপত্যকা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। তাদের মাসিক চাঁদা না দিয়ে কেউ কোনো ব্যবসা করতে পারে না। শুধুমাত্র একটি গ্রুপ নয় তারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সাধারণ জনগণের উপরে চালায় চাঁদাবাজির স্টিম রোলার। প্রত্যেকটি গ্রুপকে বিভিন্ন হারে দিতে হয় জরিমানা। 

সাধারণ ব্যবসায়ী ও বসবাসরত অসহায় জনগণকে জিম্মি করে, গুম করে, জীবনহানি করে চলে তাদের এই কার্যক্রম। এইসব সন্ত্রাসীরা ‘সরকারের ভেতরে আরেক সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যেও আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদার টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট সঙ্ঘাতে একে অপরকে গুলি করে হত্যা করা সেখানে নৈমিত্তিক ঘটনা। পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে সঠিক কোন সুরাহা আজ অবদি করতে পারেনি কোন সরকার। সন্ত্রাসীরা নিজেদের কথিত অধিকার আদায়ের নামে যে সঙ্ঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অশান্ত করে চলছে পাহাড়। তবে আরো অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করছে তারা।

১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে জোতিরিন্দ্র বোদিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয় শান্তি বাহিনী নামে একটি সামরিক শাখা। যারা পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসে। ১৯৭৭ সালে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া বহরের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ হামলার পর সেনাবাহিনী ঐ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে ২৪তম ডিভিশনের জিওসির অধীনে আনা হয়। তাদের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা। তারই ধারাবাহিকতায় তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রাণঘাতি হামলায় অসংখ্য সাধারণ মানুষ (বাঙালি) প্রাণ হারায়।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় যা ‘শান্তিচুক্তি‘ নামে পরিচিত। এই চুক্তির আলোকে সেখানে নামে মাত্র বাঙালিদের বসবাসের অধিকার থাকলেও সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় উপজাতিদের। একই মাটি, একই বায়ু, একই পরিবেশ ও একই এলাকায় বসবাস করা বাঙালিদের বঞ্চিত করা সকল ক্ষেত্রে। শান্তিচুক্তির আওতায় তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই আঞ্চলিক পরিষদেও বঞ্চিত করা হয়েছে বাঙালিদের। আঞ্চলিক পরিষদের অনির্বাচিত চেয়ারম্যান সহ সদস্য পদে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। চেয়ারম্যান ১, সদস্য (উপজাতি) পুরুষ ১২, সদস্য (উপজাতি) মহিলা ২, সদস্য (অ-উপজাতি) পুরুষ ৬, সদস্য (অ-উপজাতি) মহিলা ১। উপজাতি পুরুষ সদস্যদের মধ্যে ৫ জন চাকমা, ৩ জন মারমা, ২ জন ত্রিপুরা এবং ১ জন করে মুরং ও তঞ্চঙ্গ্যাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। মহিলা সদস্যের ক্ষেত্রে ১ জন চাকমা এবং অপরজন অন্য উপজাতি থেকে নির্বাচিত হবেন। অ-উপজাতি সদস্যের ক্ষেত্রে প্রতি জেলা থেকে ২ জন করে নির্বাচিত হবেন। তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা পদাধিকার বলে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হবেন।

শান্তি চুক্তির নাটকীয় এই সময়ে লোক দেখানো কিছু অকেজো অস্ত্র জমা দিয়ে তারা অস্ত্রবাজির বিরতির কথা রটালেও এরপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি। বরং আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে এবং বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আধুনিক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে পার্বত্য এলাকায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস সদস্যদের টার্গেট করে হামলা করে হত্যা করছে এই উপজাতিয় সন্ত্রাসীরা। যার উদাহরণ গত ০২/০২/২০২২ বুধবারের বান্দরবানের রুমার ঘটনা। বান্দরবানের রুমায় গত বুধবার রাতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্ত্রধারীদের বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষের চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান। বাকি তিনজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি রক্ষায় এই সন্ত্রাসীদের পূর্বেও বহু দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সদস্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। গত বছর বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় ওমর ফারুক নামে মসজিদের এক উপজাতীয় ইমাম এই সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন। এসব হত্যাকান্ড নিয়ে সুশীল পরিচয়দানকারী সুলতানা কামাল, খুশি কবির, মুনতাসির মামুন গংরা কোন মন্তব্য বা প্রতিবাদ না করলেও পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে কার্পন্য করেন না। 

সরকারের উচিৎ, এইমুহুর্তে অশান্ত পাহাড়কে শান্তিপূর্ণ করতে এবং পার্শ্ববর্তী দেশের হস্তক্ষেপ থেকে বাঁচাতে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষায় এখনি কার্যকরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি। প্রত্যাহারকৃত ৩৫টি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডকে আবারো স্থাপন করে এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাাঁড়াষি অভিযান পরিচালনা করে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির আবাসস্থলে পরিণত করার জোর চেষ্টা চালাতে হবে। 

সবুজ পাহাড় যেন হয়, বাংলাদেশের সুন্দরি কন্যার মতো….নির্ভয়ে-নিঃসংকোচে বসবাসের উপযোগী ভূমি হোক প্রিয় পাহাড়। সেই প্রত্যাশাই করছি।

তরুণ লেখক: হানিফ মাহমুদ


   আরও সংবাদ