জীবনের প্রথম দেখলাম, চলচিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন পুরো দেশকে মাতালো। নেশায় পড়ে আমরাও কোন না কোন পক্ষ নিয়েছিলাম। আমিও বাদ না। বিশেষ করে সম্পাদক নিয়ে মাতামাতিটা বেশি ছিলো। একবার জায়েদ সম্পাদক, পরবর্তীতে নিপুণ। আদালতে জায়েদ, আপিলে নিপুণ।
টান-টান উত্তেজনায় কাটলো বেশ কদিন। এই সুযোগে অনেক ঘটনা ঘটে গেলো। আমরা বুঝতেই পারিনি। আমরা মেতে ছিলাম শিল্পী সমিতি নিয়ে। অথচ আমাদের ব্যস্ততার ফাঁকে নিত্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পন্যের দাম বেড়েছে। ব্যস্ততায় না থাকলে বুঝতাম, প্রতিবাদ করতাম। রাজনৈতিক দলগুলোও হয়তো প্রতিবাদ করতো। কিন্তু নিপুণ-জায়েদের প্রেমে পড়ে সব ভুলে গেছি। ঠিক যেন ভানুমতির খেল।
ছোট বেলায় গ্রামের হাটে, শহরের রাস্তার পাশে ভানুমতির খেল দেখা যেত। মানুষ যখন খেলায় মেতে থাকত তখন ওই খেলার আসল খেলোয়াড় সবার পকেটে মারতো। নিপুন-জায়েদে মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার ফাঁকে ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে, গ্যাস, চাউল, সবজিসহ অধিকাংশ নিত্য পন্যের দাম বেড়ে গেছে। নিপুণ-জায়েদের শেষ দৃশ্যের অপেক্ষায় থেকে বুঝতেই পারিনি কখন এসব বেড়ে গেলো? ঠিক যেন ভানুমতির খেল।
রেজাউল করিমের ফেসবুক থেকে