ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ জৈষ্ঠ্য ১৪৩২, ২৬ রজব ১৪৪৭

বইমেলার ভিড়ে খুশি প্রকাশকরা


⬇ Photo Card

বইমেলার ভিড়ে খুশি প্রকাশকরা

মহামারি করোনার কারণে এবারও দুই সপ্তাহ পিছিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। শুরুর প্রথম তিনদিন ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও চতুর্থ দিনে জমে উঠেছে বইমেলা। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে লেখক, প্রকাশক, পাঠক ও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই কিনছেন তাদের পছন্দের বই। এতে খুশি প্রকাশক ও স্টল মালিকরা। এভাবে চলতে থাকলে গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আশা তাদের।

কয়েকজন প্রকাশক জানান, এবার মেলায় জনসমাগম বেশ ভালো। বইপ্রেমীরা আসছেন, বই দেখছেন। সংখ্যায় কম হলেও বই কিনছেন অনেকেই। স্টল মালিকরা বলছেন, গত মেলায় তেমন একটা বেচাবিক্রি ছিল না। তবে এবার শুরু থেকেই মেলায় ভীড় বাড়ছে। প্রথম ছুটির দিনে ভীড় বেড়েছে অনেক। স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছে মানুষ। পছন্দ হলেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বই। এভাবে চলতে থাকলে আশা করা যায় গত বছরের খতি কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারবো।

সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, এদিন বেলা ১১টায় উন্মুক্ত করা হয় মেলা প্রাঙ্গণ। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। প্রতিটি ফটকের প্রবেশ মুখে বাড়তে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি। মেলায় আসা প্রত্যেকের মাস্ক পরা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিশ্চিত করেই ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সুরক্ষা কর্মীরা। দুপুর গড়াতেই বইয়ের দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের কয়েকটি স্টল এখনো নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি।

সপ্তাহিক ছুটির দিন পেয়ে কর্মব্যস্ত মানুষেরা ছুটে এসেছেন বইমেলায়। এদের মধ্যে কেউ এসেছেন একা, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে আর কেউ কেউ এসেছেন সবান্ধব। একাদিক দর্শনার্থী বলছেন, করোনার কারণে প্রথমে মেলায় আসা নিয়ে একটু শঙ্কিত ছিলাম। তবে এসে দেখলাম এখানে পরিবেশ সুন্দর এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে। তারা প্রিয় লেখকের বইয়ের খোঁজে ঘুরছেন মেলা প্রাঙ্গণে। তবে অনেকেই প্রিয় লেখকের বই না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মেলায় এসেছেন প্রিয় লেখকের বই কিনতে। কিন্তু এখনো বইগুলো মেলায় আসেনি। তাই অনেকটা হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।

বিভিন্ন স্টলে বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য দিন বইমেলা দুপুর ২টায় খুলে দিলেও শুক্রবার ছুটির দিন উপলক্ষে বেলা ১১টায় খুলে দেয়া হয়েছে। প্রকাশকেরাও ছুটির দিন ঘিরে স্টলে বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। বিক্রয়কর্মীদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও সে তুলনায় বেচাকেনা বাড়েনি। তাদের প্রত্যাশা- দিন যত গড়াবে বাড়তে থাকবে ক্রেতার সংখ্যা। বাড়বে বই বিক্রিও। গত মেলার খতি কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবেন তারা।

এদিকে শিশু চত্বরের এক বিক্রেতা জানায়, সকাল থেকে অনেক শিশু এসেছে অভিভাবকের হাত ধরে। তারা পছন্দের বইগুলো খুঁজছে। অনেকেই আবার বই কিনছে। তাদের পছন্দের বই রঙবেরঙের ছড়ার বই। অনেকেই আবার গল্প, গোয়েন্দা বই খুঁজছে। জনপ্রিয় লেখকদের বইই তারা বেশি কিনছে।

বইমেলা প্রসঙ্গে কথা প্রকাশের ব্যবস্থাপক ইউনুছ আলী বলেন, আমাদের ধারণা ছিল করোনাকাল থাকায় গতবারের মতো এবারের মেলা জমবে না। তবে প্রথম দিন থেকেই অনেকটা জমে উঠেছে এবারের মেলা। পাশাপাশি শুরুর দিন থেকেই বেশ ভালো বেচাকানা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আশা করি, আমরা গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো।

করোনা সংক্রমণ ফের বাড়ার কারণে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। মেলা ঘুরে দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের বিষয়ে বার বার সতর্ক করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের। প্রবেশ পথেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে আগতদের। আর মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


   আরও সংবাদ