ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩২, ১০ জ্বমাদিউল সানি ১৪৪৭

২০০ বছর পরের আমি



২০০ বছর পরের আমি

আজ থেকে ২০০ বছর পর আমার বাড়িতে, আমার ঘরে যারা বসবাস করবে, যারা আমার জায়গা জমি ভোগ করবে আমি তাদের চিনি না। তারাও আমাকে চিনবে না। কারণ তাদের জন্মের অনেক আগেই আমি কবরবাসি হয়ে যাবো। আর ততদিন মুছে যাবে আমার নাম নিশানা। কবরটাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আমার সন্তানরা যতদিন বেঁচে থাকবে ততোদিন তারা হয়ত মনে পড়লে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলবে।

কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানরা তাদের যতটুকু মিস করবে আমাকে ততোটুকু মিস করবে না। হয়ত বাবার কবর জিয়ারত করে দোয়া করার সময় দাদার জন্যও একটু করবে। কিন্তু তার পরের প্রজন্ম আর মনে রাখবে না। প্রায় ২০০ বছর আগে মারা গেছে আমার দাদার দাদা। যিনি আমার পূর্ব পুরুষদের জন্য ঘর বাড়ি, জায়গা জমি রেখে গেছেন। একই বাড়ি, একই জায়গা জমি আমরা এখন ভোগ করছি। কিন্তু উনার কবরটা কোথায় সেটা আমরা জানি না। হয়ত আমার দাদার পিতা জানতেন। কিন্তু দাদার পিতা তো বেঁচে নেই, দাদাও বেঁচে নেই।তবে সাত পাঁচ করে যে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সেটা কবরে নিয়ে যেতে পারবেন না। আর যাদের জন্য রেখে যাচ্ছেন তারাও আপনাকে মনে রাখবে না এটা নিশ্চিত। 

অন্যের সম্পত্তি জবর দখল করে ভাবছেন আপনি জিতে গেছেন। সুদ, ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য করে সম্পদের পাহাড় গড়ে ভাবছেন আপনি জিতে গেছেন। তাহলে আপনি আস্ত একটা গাধা। আমাদের সময় খুব কম। তাই এই সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ ইত্যাদি, কোনো লাভ নেই। সময় থাকাকালীন ভালো হয়ে কবরের খোরাক সংগ্রহ করুন ঐটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আসুন নিজেকে সৎ মানুষ হিসেবে তৈরি করি পরকালের জন্য দুনিয়া থেকেই সঞ্চয় করি। এটাই আপনার জন্য প্রকৃত সম্পদ।

লিখেছেন: রেজাউল করিম


   আরও সংবাদ