ঢাকা, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩, ১৯ রবিউল সানি ১৪৪৮

‘নিরক্ষর নারীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধ হওয়া উচিত’



‘নিরক্ষর নারীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধ হওয়া উচিত’

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, আমরা গৃহকর্মী হিসেবে যাদের বিদেশে পাঠাই, তাদের বেশিরভাগই নিরক্ষর। বিদেশে নিরক্ষর নারীদের চেয়ে অসহায় আর কেউ হতে পারে না। আমি মনে করি, অন্তত অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পাস করা নারীদের গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো উচিত। নিরক্ষর নারীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধ হওয়া উচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে নারী অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা ২২টি সংগঠনের জোট ‘নারী অভিবাসীদের সম্মিলিত কণ্ঠ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যাদের শিক্ষা নেই, তাদের বোঝার ক্ষমতা কম থাকে। বিদেশে তখন তাদের সঙ্গে অন্যায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু শিক্ষিত নারী কর্মী পাঠানো গেলে তাদের সচেতনতা বেশি থাকবে। এতে করে তাদের সঙ্গে অন্যায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে। আমাদের এখানে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। যত দ্রুত আমরা ভূমিকা রাখতে পারব, তত তাড়াতাড়ি নারী কর্মীদের নির্যাতনের খবর কমে আসবে। সচেতনতার জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। কিন্তু সম্পূর্ণ নিরক্ষর মানুষকে সচেতন করা সম্ভব না।

ইমরান আহমদ বলেন, পড়াশোনা না জানা নারীরা কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন। আর সেটিকেই আমরা ব্যপকভাবে প্রচার করি। তাই সচেতনতা বাড়াতে রিক্রুটিং এজেন্সির প্রস্তাব এবং বাস্তবতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিটি জেলায় ডেমো অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহের সার্বিক ব্যবস্থা করবে মন্ত্রণালয়।

বিদেশগামী নারী কর্মীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যে নারীরা কর্মী হয়ে বিদেশ যেতে চান, তাদের আগে জানতে হবে কোথায় গেলে সুবিধা হবে। তাদের সহযোগিতা করার জন্য আমাদের জেলা জনশক্তি অফিস, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রায় সব জেলায় আছে। সেখানে আমরা পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করার চেষ্টা করি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইমরান জানান, বিদেশে নারী ক র্মীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কেয়ার গিভার ও নার্সিং অনেক বড় খাত। এ খাতে বাংলাদেশের ভালো করার জন্য আলাদা টিটিসি এবং নারীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি।অভিবাসী হিসেবে নারীদের কর্মসংস্থানের থেকেও দেশের গার্মেন্টস খাত কাজের জন্য বড় সুযোগ। এ খাতের সম্ভাবনাকে বাদ দিয়ে নারীদের বিদেশে যাওয়ার আগে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন ইমরান আহমদ।

তিনি আরো বলেন, আরব দেশ সহ, জাপান, জার্মানি থেকে উচ্চ বেতনে জনশক্তি নেয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সেজন্য আমাদের নারীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া বিশ্বের অনেক দেশে তাদের ভাষাকে জনশক্তি নেয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে গণ্য করে। তাই এসব বিষয়ে আরও দক্ষ নারী জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী নারী জনশক্তি তৈরি করা সংগঠন ও জোটগুলোর জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।


   আরও সংবাদ