২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের চেয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। এ বছর বোর্ডে অকৃতকার্য বা ফেলের হার দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৯৪ শতাংশে। পরীক্ষা দেওয়া মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৭৭ হাজার ৪২ জন।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
বোর্ডের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছর (২০২৫ সালে) এ বোর্ডে ফেলের হার ছিল ৪০ দশমিক ৬০ শতাংশ (পাসের হার ছিল ৫৯.৪০%)। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডে ফেলের হার বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ পয়েন্ট।
ফেলের পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ : শিক্ষার্থীদের ফেল করার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নির্দিষ্ট এক ও দুই বিষয়। তথ্য অনুযায়ী:
এক বিষয়ে ফেল: পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীর ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছেন একটিমাত্র বিষয়ে। গত বছর এক বিষয়ে ফেলের এই হার ছিল ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
দুই বিষয়ে ফেল: এ বছর ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।
জিপিএ-৫ ও শতভাগ ফেল করা কলেজের চিত্র : ফলাফলের সার্বিক ধসের প্রভাব পড়েছে জিপিএ-৫ ও কলেজের পাসের চিত্রেও। এ বছর অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করায় জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫২০ জনে, যা গত বছর ছিল ১০ হাজার ১৩৭ জন। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৫ হাজার ৬১৭ জন।
ফেলের হার বাড়ায় শূন্য পাসের (শতভাগ ফেল) প্রতিষ্ঠানের তালিকাও বড় হয়েছে। এ বছর বোর্ডের অধীন থাকা ৭৪৩টি কলেজের মধ্যে ৩৯টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। গত বছর শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৫টি।
অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের ১৮টি থেকে কমে এ বছর মাত্র ৯টিতে নেমে এসেছে।