ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩, ১৯ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এইচএসসিতে



২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এইচএসসিতে

দীর্ঘ ২১ বছরের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড হয়েছে। দেশের ৯টি সাধারণ বোর্ডসহ মাদরাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একযোগে সারা দেশে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ফলাফলের সার্বিক দিক তুলে ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছেন এবং ফলাফলের এই সূচকে ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানানো হয় যে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহভাবে করা হয়েছে।

ফল প্রকাশের এই অনুষ্ঠানে ফলাফল জানার নির্দিষ্ট কয়েকটি উপায়ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা মোট তিন উপায়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। প্রথমত, পরীক্ষার্থী যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, সরাসরি সেই বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির নির্ধারিত দুটি ওয়েবসাইট (eduboardresult.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd) থেকেও ফল জানা যাবে। তবে শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে সরাসরি কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ঘরে বসে ফল জানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর জন্য মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে HSC লিখে একটি স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ‘HSC DHA 123456 2026’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠালেই ফিরতি বার্তায় ফল চলে আসবে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হয়েছিল ৮ আগস্ট। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ২ারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।


   আরও সংবাদ