ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩, ১০ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি



সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সাজেক পর্যটন সড়কে তিন দফা দাবিতে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে এই অবরোধ শুরু হয়। তবে এই সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা থেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের’ যৌথ উদ্যোগে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। পিকেটাররা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে সাজেকে আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ এসকর্ট দল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসকর্টটি সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা পথরোধ করে তা আটকে দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনার মাধ্যমে পর্যটকদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও অবরোধকারীরা অনড় থাকে। একপর্যায়ে সেনাসদস্যরা ব্যারিকেড ভেঙে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় উজোবাজার এলাকায় অবস্থানরত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।

চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণবশত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা জানানো হয়।

আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর দাবি, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যরা মাচলং, থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িসহ সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় অবস্থান নিয়ে শতাধিক সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে। সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত অপসারণ এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে দফায় দফায় অবরোধের পর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল।

সাজেক সড়কে নতুন করে এই অবরোধ শুরু হওয়ায় স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত ও নিত্যপণ্য পরিবহনে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া পরিবহন সংকটের কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত জুমের ফসল সময়মতো বাজারে নিতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।


   আরও সংবাদ