ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩৩, ২১ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষ, কাভার্ডভ্যানে আগুন



আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষ, কাভার্ডভ্যানে আগুন

ঢাকার আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ সময় নরসিংহপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সড়কসংলগ্ন অধিকাংশ পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহম্মেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শ্রমিকেরা প্রথমে অনন্ত গ্রুপের একটি কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে তারা হামীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে দাবি আদায়ে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নরসিংহপুরের নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করেন। পরে আশপাশের কারখানাগুলোর সামনেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের মধ্যে সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সড়কের পাশের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহম্মেদ আহত হন।

এর আগে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, সকালে পোশাক শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ ছাড়া বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কে শ্রমিকরা অবস্থান নেন। পরে পুলিশ বুঝিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউ এইজ পোশাক কারখানার এক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের ধাওয়া দিচ্ছে।’ এ ছাড়া পোশাক কারখানার দুই শ্রমিককে রোববার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত পোশাক শ্রমিকদের মুক্তির দাবি জানান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সুইটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, সকালে কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা প্রবেশ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। এ ছাড়া নিউ এইজ পোশাক কারখানার দুই শ্রমিককে রোববার পুলিশ আটক করেছে বলে ওই কারখানার শ্রমিকরা আজকেও বিক্ষোভ করছেন। পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে আটক করার বিষয়টিকে নিন্দা জানাই।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গতকাল (রোববার) ১৭৭টি পোশাক কারখানার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেখান থেকে আজ কতগুলো চালু রয়েছে, তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় জানা সম্ভব হয়নি।


   আরও সংবাদ