বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শফিক উদ্দীন ভুঁইয়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক একচ্ছত্র প্রশাসনিক বলয়। নিয়োগ-বাণিজ্য, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, কেনাকাটা ও টেন্ডারের গোপন তথ্য পাচার, ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) এবং জমি ও স্পেস বরাদ্দে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে সরকারি নথি ও অনুসন্ধানে।
ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর অতি সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গত ৬ সেপ্টেম্বর জারি করা অফিস আদেশে শফিক উদ্দীন ভুঁইয়াকে যশোরের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে স্ট্যান্ড রিলিজের নির্দেশে বদলি করা হয়।
এক কর্মকর্তার হাতেই ছয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
হাই-টেক পার্কের প্রশাসনিক কাঠামোর সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা শফিক উদ্দীন ভুঁইয়ার হাতে ক্ষমতার চরম কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হওয়া। সরকারি রেকর্ডে দেখা যায়, তিনি একই সঙ্গে অন্তত ছয়টি সংবেদনশীল পদে বহাল ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে—১২টি জেলায় আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) একান্ত সচিব, শিফট/বিআইএফটি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের দায়িত্ব, টেকনিক্যাল ও প্ল্যানিং শাখার দায়িত্ব এবং তার নিজস্ব মূল প্রশাসনিক পদ।
প্রভাবশালী একজন সাবেক এমডি বিকর্ণ কুমার ঘোষের সময় থেকে শফিকের ক্ষমতার প্রভাব জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। অডিট আপত্তি থাকার পরও কোন প্রশাসনিক বলয়ে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ একাহাতে নিয়ন্ত্রণ করতেন, তা নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অডিট আপত্তি, আপ্যায়ন ও ওএসএস বাণিজ্য
প্রকল্পের আর্থিক নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শফিক উদ্দীন ভুঁইয়ার মূল বেতন (বেসিক স্যালারি) বাবদ ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩১৪ টাকা অতিরিক্ত ও অনিয়মিত উত্তোলনের তথ্য সরকারি অডিটে ধরা পড়ে। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরের ‘আপ্যায়ন ব্যয়’ হিসেবেই খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা, যার সিংহভাগ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে পকেটে পুরেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদানের ক্ষেত্রে। সামস্যাং সহ বিভিন্ন বহুজাতিক ও স্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ডিউটি-ফ্রি ইকুইপমেন্ট আমদানির অনুমোদনে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার গোপন লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ১২টি আইটি পার্ক প্রকল্পের ট্রেইনিং ও কনস্ট্রাকশন টেন্ডার এবং পার্কগুলোর জমি-স্পেস বরাদ্দে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাইটেক পার্কের এমডি ফজলুর রহমান বলেন, শফিক উদ্দিন ভুঁইয়াকে বদলি করা হয়েছে৷ তিনি দুই দিন ধরে প্রধান কার্যালয়ে ডিউটি করছেন না৷ শুনেছি বদলিকৃত স্থানেও জয়েন করেননি৷ এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷